Sunday, March 29, 2026
Latestদেশ

নতুন করে ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ( Rajnath Singh) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত Defence Acquisition Council (DAC)-এর বৈঠকে প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ক্রয় অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থের মধ্যে বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন- নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার – বিমানবাহিনীর আকাশসীমা রক্ষা ও দ্রুত আক্রমণ ক্ষমতা বাড়াতে। 

মাল্টি-লেয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম – শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিরোধে।

ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি – আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি ও আঘাত হানার জন্য।

নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও টহল জাহাজ – ভারত মহাসাগরে উপস্থিতি শক্তিশালী করতে।

স্মার্ট আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা – স্থলসেনার আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে।

উন্নত রাডার ও নজরদারি সিস্টেম – সীমান্তে ২৪x৭ পর্যবেক্ষণের জন্য।

এই ক্রয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি কেবল একক বাহিনীর জন্য নয়—ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড—তিনটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের “Joint Warfare” বা সমন্বিত যুদ্ধনীতিতে ভারত আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রকল্পগুলির একটি বড় অংশ দেশীয় সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) ’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এর ফলে- বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে , দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে Defence Research and Development Organisation (DRDO) ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে—

উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি ,

ড্রোন ও সাইবার যুদ্ধের মতো নতুন হুমকি, 

ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ,

দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক সামরিক প্রযুক্তি ।

এই প্রেক্ষাপটে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

এই ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা ক্রয় শুধু অস্ত্র কেনা নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে—

ভারতীয় বাহিনীর রেসপন্স টাইম কমবে , 

নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা বাড়বে , 

ডিটারেন্স পাওয়ার (প্রতিরোধ ক্ষমতা) আরও শক্তিশালী হবে , 

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের সামরিক অবস্থান আরও দৃঢ় হবে । 

সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদের (Defence Acquisition Council) এই অনুমোদন ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ। আধুনিক প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন এবং কৌশলগত প্রস্তুতির সমন্বয়ে আগামী দিনে ভারত আরও শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।