Thursday, January 8, 2026
Latestদেশ

Assam Fastest-growing State Economy: ‘গত ৫ বছরে অসমের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশ, দেশের মধ্যে দ্রুততম’

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে দ্রুততম হারে বৃদ্ধি হওয়া রাজ্য অর্থনীতি এখন অসম। গত ৫ বছরে অসমের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় বৃদ্ধি ২৯ শতাংশ—এমনই দাবি করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি, ২০২৫) গুয়াহাটিতে ‘নতুন দিনের আলাপ’ শীর্ষক এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে অসমের মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GSDP) ছিল ৪,১০,৭২৪ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৭,৪১,৬২৬ কোটিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “এটি কোনও রাজনৈতিক স্লোগান নয়। RBI-এর তথ্যের ভিত্তিতেই এই স্বীকৃতি। তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্রের মতো উন্নত রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে অসম।”

তিনি জানান, “গত ৫ বছরে রাজ্যের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। একই সঙ্গে রাজ্য ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক রাজস্ব ভারসাম্য বজায় রেখেছে, যার ফলে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে টেকসই বিনিয়োগ সম্ভব হয়েছে।”

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাজেট ব্যবহারের হার বেড়ে হয়েছে ৮৫ শতাংশ, যেখানে ২০২০-২১ সালে তা ছিল মাত্র ৬৫ শতাংশ।

পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০২১-২২ সালে যেখানে মূলধনী ব্যয় ছিল ₹২০,২৩০ কোটি, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ₹২৬,৪০৯ কোটিতে।

রাজ্যের মাথাপিছু আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ১,০৩,৩৭১ টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ১,৫৯,১৮৫ টাকা—প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৫ বছরে রাস্তাঘাট, সেতু, জলপথ টার্মিনাল, বিদ্যুৎ, টেলিকমিউনিকেশন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল পরিকাঠামো নির্মাণে নজিরবিহীন গতি এসেছে। বর্তমানে জোরহাট-মাজুলি, পালাশবাড়ি-সুয়ালকুচি, গুয়াহাটি-নর্থ গুয়াহাটি এবং ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সংযোগকারী দেশের দীর্ঘতম নদী সেতু-সহ চারটি বড় সেতু প্রকল্প চলছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও রাজ্য এগিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ‘অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০’ বিনিয়োগ সম্মেলনে ৫.১৮ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এর ডাভোস বৈঠকে মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের সঙ্গে অসমকেও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্রের আস্থার প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়াও টাটা সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট প্রকল্প (₹২৭,০০০ কোটি), নুমালিগড় রিফাইনারির সম্প্রসারণ প্রকল্প (₹২৮,০২৬ কোটি) এবং নামরুপে ব্রাউনফিল্ড অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া প্রকল্প (₹১০,৬০১ কোটি) সহ একাধিক বড় শিল্প বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

কৃষি ক্ষেত্রেও অগ্রগতির দাবি করে তিনি জানান, ধান ক্রয় বেড়ে ২ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে ৮.৫০ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “শিল্প ও কৃষি—দু’টি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে আমরা প্রমাণ করেছি অসম এগোতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে লক্ষ্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা।”