Friday, April 10, 2026
Latestরাজ্য​

‘মন্ত্রী হোন বা সান্ত্রী, সকলের হিসাব হবে, জেলে পুরে দেওয়া হবে’, হলদিয়ার জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি মোদীর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দুর্নীতি ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, তৃণমূল আমলে যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না, এমনকি রাজ্যের মন্ত্রীরাও বাদ যাবেন না। তাঁর কথায়, “মন্ত্রী হোন বা সান্ত্রী, সকলের হিসাব হবে, জেলে যেতে হবে।”

ভাষণে কড়া রাজনৈতিক বার্তা

প্রায় ৩৫ মিনিটের ভাষণের বড় অংশ জুড়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং “অত্যাচারীদের কাউকেই ছাড়া হবে না।” শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, পরিবর্তনের পরে ‘হিসাব নেওয়ার’ কথাও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বে জোর

কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করেন মোদী। পিএম বিশ্বকর্মা, পিএম সূর্যঘর, আয়ুষ্মান ভারত—এই সব প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও তিনি সরাসরি নাম না নিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের দিকেই ইঙ্গিত করেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়ন দ্রুত হবে—তাই প্রয়োজন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার।

রাজনৈতিক সুরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

গত কয়েকটি নির্বাচনী সভার তুলনায় মোদীর ভাষণে এবার আরও আক্রমণাত্মক সুর লক্ষ্য করা গিয়েছে। আগে যেখানে ‘পরিবর্তনের আহ্বান’ ছিল মূল বিষয়, সেখানে এখন ‘পরিবর্তনের পরে জবাবদিহি’—এই বার্তাও স্পষ্ট। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে এই বার্তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর—ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে পরিবর্তন এসেছে, এ বার ভবানীপুরেও আসবে, গোটা বাংলাতেও আসবে।” এই মন্তব্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির আগ্রাসী কৌশলেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

শিল্প ও কর্মসংস্থান ইস্যু

হলদিয়ার শিল্পাঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদী বলেন, এক সময় যেখানে কাজের জন্য বাইরে থেকে মানুষ আসত, এখন সেখানকার মানুষকেই অন্য রাজ্যে বা আন্দামানে যেতে হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের নীতিকেই এর জন্য দায়ী করেন তিনি।

ধর্ম ও সংরক্ষণ নিয়ে আক্রমণ

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার জন্য সংরক্ষণ নীতিতে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, যা আদালতও বারবার ভর্ৎসনা করেছে। বিজেপি সংবিধান মেনে কাজ করবে এবং সকলের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।