Nepal Ban Student Politics: কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চলেছে নেপাল, সিদ্ধান্ত বলেন্দ্র শাহের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নেপালের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)-এর সিদ্ধান্তে। শপথ নেওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তিনি, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করার পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে।
ক্ষমতায় আসার পরই প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন বলেন্দ্র। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা ওলি (K. P. Sharma Oli) এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Ramesh Lekhak-এর গ্রেফতারি সেই কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে তিনি ১০০ দফা সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং দুর্নীতি কমানো।
এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনীতি সরিয়ে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই নেপালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংগঠনগুলির প্রভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় পরীক্ষায় দেরি, সেশন জট, এমনকি ছাত্রদের মধ্যে হিংসার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজনৈতিক ছাত্র কাউন্সিল গঠন করা হবে। অর্থাৎ ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের প্রভাব থাকবে না। সরকারের দাবি, এতে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থা আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মতও সামনে আসছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ছাত্র রাজনীতি গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণদের রাজনৈতিক চর্চা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের অভাব দেখা দিতে পারে। তাঁদের মতে, এটি আসলে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কমানোর একটি পদক্ষেপ।
শুধু শিক্ষাঙ্গনই নয়, বলেন্দ্র সরকারের নজর রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের দিকেও। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষক এবং সরকারি কর্মীরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি সরকারি দফতরে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকলাপও বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে। সরকারের মতে, এতে প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক প্রভাব কমবে এবং কাজের গতি বাড়বে। যদিও সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে কর্মচারীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
এর পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় আরও কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। যেমন—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশ, শিক্ষাবর্ষকে নিয়মিত করা, এমনকি প্রাথমিক স্তরে কিছু পরীক্ষার ধরণ বদলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সরকার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের Gen Z Protest নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ভূমিকা নেয়। সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত বড় আকার নেয়। এই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারান, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ। সেই আন্দোলনের জোরেই রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে।
তবে এখন সেই যুবসমাজের ভূমিকাই প্রশ্নের মুখে। একদিকে আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের জন্য চাকরির ঘোষণা করেছে সরকার, অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই সংস্কারের জন্য, নাকি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য?
সব মিলিয়ে, বলেন্দ্র শাহের এই পদক্ষেপ নেপালের রাজনীতিতে নতুন দিক খুলে দিয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে নাকি গণতান্ত্রিক চর্চা কমবে—তা সময়ই বলবে। আপাতত এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা ও বিতর্ক, দুই-ই বাড়ছে নেপালে।


