Thursday, February 26, 2026
Latestরাজ্য​

‘পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে’, আশঙ্কা মমতার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আশঙ্কা করেন, ‘SIR প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।’

ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পর বক্তৃতার শেষে এসআইআর নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে আরও ৫০ থেকে ৮০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে। তিনি বলেন, “২০ লক্ষ ভোটার মারা গিয়েছেন ধরে নিলেও, প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে।”

সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের উল্লেখ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of India-এ আবেদন করেছেন। তাঁর কথায়, পিটিশন এখনও বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশের পরও যথাযথ পদক্ষেপ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলেও জানান।

“দল নয়, মানবতার প্রশ্ন”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেন, বিষয়টি কোনও দলীয় রাজনীতির নয়। তাঁর বক্তব্য, “এটা দেখতে হবে না কে তৃণমূল, কে বিজেপি, কে সিপিএম; কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে শিখ, কে জৈন, কে খ্রিস্টান। আমি চাই গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকুক এবং প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কারও নাম বাদ গেলে তিনি তাঁদের পাশে থাকবেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভবানীপুরে ৪৩ হাজার নাম বাদ

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর নিজ বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রথম পর্যায়ের এসআইআরে ৪৩ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ইস্যুতে দলীয় নেতা ও বিধানসভার বিএলএ এবং বিএলএ-২-দের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি।

জৈন সম্প্রদায়ের আবেদনে প্রতিক্রিয়া

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি মন্দির নির্মাণের আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য সরকার সরাসরি মন্দির নির্মাণ করতে পারে না। তবে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।’

২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিকে নজর রাখছে রাজ্য রাজনীতি। এসআইআর ইস্যুতে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইনি পর্যায়ে কী পদক্ষেপ হয়, এখন সেটাই দেখার।