ব্রাজিল থেকে ৬টি এমব্রেয়ার বিমান, ইজরায়েল থেকে ৬টি মিড-এয়ার রিফুয়েলার, ফ্রান্স থেকে ৩৬টি মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তগুলির ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বায়ুসেনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) সম্প্রতি যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মিড-এয়ার রিফুয়েলার, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (AEW&C/AWACS) এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ।
মিড-এয়ার রিফুয়েলার ঘাটতি মেটাতে ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনা
ডিএসি ইজরায়েল থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭-ভিত্তিক মিড-এয়ার রিফুয়েলার কেনার প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (IAI)-এর সঙ্গে দাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হচ্ছে। মূল্য চূড়ান্ত হলে প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বর্তমানে বায়ুসেনার কাছে ২০০৩ সালে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি রুশ নির্মিত আইএল-৭৬এম রিফুয়েলার রয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রস্তুতির সমস্যায় এই বহর কার্যত কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।
AEW&C ও AWACS সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
বৈঠকে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোট ১২টি AEW&C সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল থেকে ছয়টি এমব্রেয়ার বিমান কেনার জন্য শীঘ্রই রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই বিমানগুলিতে বসানো হবে ডিআরডিও-উন্নত ‘নেত্রা মার্ক-২’ AESA রেডার, যা ২৭০ ডিগ্রি নজরদারি এবং উন্নত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদান করবে।
পাশাপাশি, ফ্রান্স থেকে কেনা ছয়টি এয়ারবাস A319 বিমানে ৩৬০ ডিগ্রি রোটোডোম রেডার বসিয়ে সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গ AWACS প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে।
অপারেশন সিন্দুরে ধরা পড়ে ঘাটতি
মিড-এয়ার রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স-এর অভাব ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় স্পষ্টভাবে সামনে আসে। সেই অভিযানে পাকিস্তানের তুলনায় এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার, যা পরবর্তী পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলে।
রাফায়েল ও এস-৪০০-এর জন্য অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএসি ফ্রান্স থেকে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের জন্য ৩৬টি অতিরিক্ত মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি, রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২৮০টি দীর্ঘ ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তও সম্প্রতি নেওয়া হয়েছে।
১১৪টি MRFA ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ জোর
এদিকে, ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতে রাফাল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ (MRO) পরিকাঠামো আগে থেকেই থাকায়, নতুন যুদ্ধবিমান ধারা চালুর বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সম্প্রসারিত করার পক্ষেই মত দিয়েছেন প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা।
আকাশপথে বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পথে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং প্যান্টসির মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।


