Saturday, February 28, 2026
Latestআন্তর্জাতিকদেশ

ভারতকে ‘আয়রন ডোম’, ‘আয়রন বিম’ এবং গোল্ডেন হরাইজন দিচ্ছে ইসরায়েল

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বুধবার তেল আভিভে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সফরের শুরু থেকেই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কূটনৈতিক বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক কেবল কৌশলগত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের দিকে এগোচ্ছে।

ইজরায়েলের পার্লামেন্ট Knesset-এ ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বলেন, “আজকের অনিশ্চিত পৃথিবীতে ভারত এবং ইজরায়েলের মতো আস্থাবান দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি।” তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের উপর জোর ছিল স্পষ্ট।

সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মউ

সূত্রের দাবি, আসন্ন ভারত–ইজরায়েল প্রতিরক্ষা মউ চুক্তির দুটি প্রধান দিক রয়েছে—

কৌশলগত সহায়তা ও যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি

অস্ত্র ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর

ভারত পেতে চলেছে Israel Aerospace Industries (IAI)-এর তৈরি একাধিক উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। পাশাপাশি ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা Rafael Advanced Defense Systems এবং Elbit Systems-এর প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

কোন কোন অস্ত্র ব্যবস্থা আসতে পারে ভারতের হাতে?

১) আয়রন ডোম

Iron Dome হল স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

৪ থেকে ৭০ কিমি রেঞ্জের রকেট ও মর্টার প্রতিহত করতে সক্ষম।

দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও উচ্চ সাফল্যের হার এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন ও রকেট হামলা ঠেকাতে এটি কার্যকর হতে পারে।

২) আয়রন বিম

Iron Beam একটি লেজার-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

প্রায় ১০ কিমি দূরত্বে ড্রোন ও রকেট ধ্বংস করতে পারে।

কম খরচে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। লেজার প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

৩) ডেভিডস স্লিং (David’s Sling)

David’s Sling মাঝারি পাল্লার মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

প্রায় ৩০০ কিমি রেঞ্জের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম।

শত্রুপক্ষের ড্রোন ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

৪) ‘গোল্ডেন হরাইজন’—সবচেয়ে আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তথাকথিত ‘গোল্ডেন হরাইজন’ দূরপাল্লার মিসাইল। সূত্রের দাবি,

যুদ্ধবিমান, বিশেষত Sukhoi Su-30MKI থেকে নিক্ষেপযোগ্য।

১০০০–২০০০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ও কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস করতে পারে।

গতি নাকি BrahMos-এর থেকেও বেশি—এমন দাবিও উঠছে।

তবে এই অস্ত্র ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক কারিগরি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতীয় বায়ুসেনার কৌশলগত ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

কৌশলগত বার্তা

ভারত ও ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত এক দশকে দ্রুত গভীর হয়েছে। গোয়েন্দা সহযোগিতা, ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার সুরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সমন্বয় বেড়েছে।

এই সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে—

সীমান্ত সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি হবে।

দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ মিলবে।

পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও দৃঢ় হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মোদী–নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ সামরিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত বহন করছে