ইসরায়েলের কনেসেটের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইসরায়েল সফরে গিয়ে ঐতিহাসিক সম্মান পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ইসরায়েলের সংসদ Knesset তাঁকে ‘Speaker of the Knesset Medal’ প্রদান করেছে। যা কনেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান।
২ দিনের সফরে কনেসেটে ভাষণ দেওয়ার পর ‘মোদী-মোদী’ ধ্বনি ও একাধিক স্ট্যান্ডিং ওভেশনের মধ্যেই এই পদক তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে ভারত–ইসরায়েল কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করতে তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
কৌশলগত বন্ধুত্বের বার্তা
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনিশ্চিত বিশ্বপরিস্থিতিতে ভারত ও ইসরায়েলের বন্ধুত্ব শক্তির উৎস হয়ে থাকুক। তিনি জানান, দুই দেশই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ভারত সবসময় ইসরায়েলের পাশে থেকেছে।
‘তিক্কুন ওলাম’ ও ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’
মোদীর ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দুই প্রাচীন সভ্যতার দর্শনের মিল তুলে ধরা। তিনি বলেন, ইসরায়েলে ‘Tikkun Olam’ বিশ্বকে আরোগ্য করার কথা বলে, আর ভারতে ‘Vasudhaiva Kutumbakam’ ঘোষণা করে—পৃথিবী এক পরিবার। এই দুই দর্শনই মানবতার সীমানা প্রসারিত করে সহমর্মিতা ও নৈতিক সাহসের আহ্বান জানায়।
উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হানুক্কার আলো ও দীপাবলির প্রদীপ একই বার্তা দেয়। খুব শীঘ্রই ভারত হোলি উদযাপন করবে, আর ইসরায়েলে পালিত হবে পুরিম—উভয়ই আনন্দ ও ঐক্যের উৎসব।
জন্মদিন ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
মোদীর বক্তব্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল তাঁর জন্মতারিখ প্রসঙ্গ। তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫০—যেদিন ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়—সেই দিনই তাঁর জন্ম। এই ঐতিহাসিক সংযোগ তাঁকে ইসরায়েলের সঙ্গে এক বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মোদী বলেন, “কোনও কারণই নিরীহ নাগরিক হত্যাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক পদক্ষেপ, কারণ পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে সন্ত্রাস শান্তির জন্য হুমকি।
ঐতিহাসিক সফরের তাৎপর্য
নয় বছর আগে ইসরায়েল সফর করা প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মোদী। এবারও তাঁর সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও উদ্ভাবন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত মিলেছে।
ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ও মূল্যবোধভিত্তিক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে—কনেসেটের এই সর্বোচ্চ সম্মান সেই বন্ধনেরই প্রতীক।


