জাপানকে পিছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতির দেশ ভারত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল ভারত। জাপানকে পিছনে ফেলে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। কেন্দ্রের তরফে জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারি রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, আগামী আড়াই থেকে ৩ বছরের মধ্যেই জার্মানিকে ছাপিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।
অর্থমন্ত্রকের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই মুহূর্তে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বৃহৎ অর্থনীতি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৮.২ শতাংশে। প্রথম ত্রৈমাসিকে এই হার ছিল ৭.৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে ছিল ৭.৪ শতাংশ। গত ছয় ত্রৈমাসিকের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হার বলে জানানো হয়েছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্ত ভিত
সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের অর্থনীতি এখনও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফলেই মূলত এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে, যা ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আসনে বসাবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম এবং চিন দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির আশাবাদ
শুধু সরকারের দাবি নয়, ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ে আশাবাদী একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাও।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হতে পারে ৬.৫ শতাংশ। মুডিজ জানিয়েছে, ২০২৬ ও ২০২৭—দু’বছরই জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতি থাকবে ভারত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৫ সালের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬.২ শতাংশ ধার্য করেছে। ওইসিডি মনে করছে, ২০২৫ সালে ভারতের বৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
এছাড়া এস অ্যান্ড পি চলতি অর্থবর্ষে ৬.৫ শতাংশ এবং পরের বছরে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ২০২৫ সালের বৃদ্ধির অনুমান বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ করেছে। ফিচের মতে, ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বৃদ্ধি হতে পারে ৭.৪ শতাংশ।
অর্থনীতির মৌলিক ভিত মজবুত
সরকারি বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী। মুদ্রাস্ফীতি সহনসীমার নীচে রয়েছে, বেকারত্বের হার কমছে। রফতানি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় তারল্য স্থিতিশীল। বাণিজ্যিক ঋণপ্রবাহ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শহুরে ভোগব্যয় বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখতে সহায়ক হচ্ছে।
সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, ২০৪৭ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।


