রেলপথে জুড়ছে ভারত-ভুটান, বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি টাকা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে রেল সংযোগ গড়ে তুলতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত-ভুটান সীমান্তে খুলে যাবে নতুন বাণিজ্য করিডর, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে এনে দেবে নতুন গতি।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিম্ন অসমের কোকড়াঝার থেকে ভুটানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল শহর গ্যালিফু পর্যন্ত তৈরি হবে প্রায় ৬৯ কিলোমিটার রেললাইন, পাশাপাশি জলপাইগুড়ির বানারহাট থেকে ভুটানের সামচি পর্যন্ত তৈরি হবে আরও ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ। দুই দেশের মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপনের এই দুটি প্রকল্পকেই ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় রেল বোর্ড ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ করেছে ৪,০৩৩ কোটি টাকা। বুধবার আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার দেবেন্দ্র সিং সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ভুটানের গ্যালিফু ও সামচি দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এই দুই শহরকে ভারতের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হলে উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হবে এবং পণ্য পরিবহণের সময় ও ব্যয় অনেকটাই কমে যাবে।”
দেবেন্দ্র সিং আরও জানান, ২০২৭ সালের মধ্যেই সেভক থেকে রংপো পর্যন্ত রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কামাখ্যাগুড়ি ও বীরপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে ওভারব্রিজ (আরওবি) নির্মাণের প্রস্তাবও রেল বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই সমস্ত পরিকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ হলে উত্তরবঙ্গ, অসম ও ভুটান সীমান্তের মধ্যে রেল যোগাযোগ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। গ্যালিফু ভুটানের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্র, যেখানে সিমেন্ট, লোহা, কাঠসহ একাধিক উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। অপরদিকে, সামচি শহরটি ভুটানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রশাসনিক অঞ্চল, যা ভারতের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ভৌগোলিকভাবে ঘনিষ্ঠ।
এই রেল সংযোগ কার্যকর হলে ভুটানের শিল্পপণ্য ভারতের বাজারে দ্রুত পৌঁছনোর সুযোগ পাবে, পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেও পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দুই দেশের মধ্যে কেবল বাণিজ্যই নয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও আরও গভীর হবে।
ভুটানকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ভারতের “নেবারহুড ফার্স্ট” নীতির একটি বাস্তব প্রতিফলন—যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়িয়ে উন্নয়নের নয়া দিশা খোঁজা হচ্ছে।


