কুপিয়ে খুন করা হয়, এবার বিজেপির হয়ে প্রচারে নামলেন নিহত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী এবং চন্দন দাসের স্ত্রী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: একদিকে স্বজন হারানোর গভীর ক্ষত, অন্যদিকে রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা, এই দুইয়ের মিশেলে নজর কাড়ল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ। নিহত হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসের স্ত্রী এবার নামলেন নির্বাচনী প্রচারে। বিজেপির (Bharatiya Janata Party) হয়ে তাঁদের এই প্রচার ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সামশেরগঞ্জ থানার জাফরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাস গত বছর হিংসাত্মক ঘটনায় নিহত হন। অভিযোগ ওঠে, ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মাঝে পড়ে তাঁদের কুপিয়ে খুন করা হয়। যদিও পরিবার সূত্রে দাবি, ওই বিক্ষোভের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কোনও সম্পর্ক ছিল না।
ঘটনার প্রায় এক বছর পর, এবার সেই পরিবারের দুই নারী পারুল দাস (হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী) এবং পিঙ্কি দাস (চন্দন দাসের স্ত্রী) রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলেন। বুধবার, সামশেরগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী ষষ্ঠীচরণ ঘোষের সমর্থনে একটি নির্বাচনী কর্মিসভায় যোগ দেন তাঁরা। ধুলিয়ান পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত ওই সভায় তাঁদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সুতপা মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন পারুল ও পিঙ্কি। সেখানেই তাঁরা জানান, কঠিন সময়ে বিজেপি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পারুল দাস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বিজেপি প্রথম থেকেই আমাদের পাশে ছিল, সবরকম সাহায্য করেছে। তাই তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়েই আজ এখানে এসেছি।”
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে ওয়াকফ আইনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তার আঁচ লাগে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং সুন্দরবন এলাকাতেও। সেই অশান্তির আবহেই ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে, ২২ ডিসেম্বর আদালত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। এই রায়ের পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও, পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা আজও পূরণ হয়নি।
এবার সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করেই রাজনৈতিক ময়দানে নামলেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026)-কে সামনে রেখে তাঁদের এই পদক্ষেপ রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্বজন হারানোর যন্ত্রণা থেকে উঠে এসে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এই ঘটনা যে ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে, তা মানছেন অনেকেই। এখন দেখার, এই মানবিক আবেগ কতটা প্রভাব ফেলে আসন্ন নির্বাচনে।


