Monday, January 19, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

‘আমাদের দেশ আমাদের ফিরিয়ে দাও’, অবৈধ অভিবাসন বন্ধের দাবিতে লন্ডনে লক্ষাধিক মানুষের বিক্ষোভ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: শনিবার লন্ডনে বিশাল অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ দেখালো দক্ষিণপন্থীরা। অভিবাসন নীতির কঠোর করার দাবি জানিয়ে প্রায় এক লক্ষ ১০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ মানুষ ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এই বিক্ষোভের অন্যতম আহ্বায়ক ছিলেন চরম দক্ষিণপন্থী নেতা টমি রবিনসন। তিনি সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন, অবৈধভাবে অভিবাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বিক্ষোভকারীরা লাল-সাদা ইংল্যান্ডের পতাকা নিয়ে হেঁটে বিক্ষোভমূলক স্লোগান দেন, যেমন – ‘আমাদের দেশ ফিরিয়ে দাও’, ‘আমরা আমাদের দেশ ফিরে পেতে চাই’, ‘ওদের বাড়ি পাঠাও’, ‘আমাদের সন্তানদের বাঁচাও’।

প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল চললেও, দুপুরের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিবাসনের পক্ষে পাল্টা একটি মিছিল ‘মার্চ এগেনস্ট ফ্যাসিজম’ নামক কর্মসূচির আওতায় বের হয়। সেখানে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে, দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। এ কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা বিপক্ষ মিছিলে পাথর, বোতল ছুঁড়তে শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশের অফিসাররাও মারধরের শিকার হন। শেষ পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ অফিসার আহত হন। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

কয়েক দিন আগে লন্ডনে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করে ইথিওপিয়ার এক অভিবাসী। বিক্ষোভের সূত্রপাত ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। ঐ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন হোটেলে থাকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ শুরু হয়।

আহ্বায়ক টমি রবিনসন বলেন, ‘‘এখন ব্রিটিশ নাগরিকদের চেয়ে অভিবাসীদের আইনি অধিকার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অথচ এই দেশটি ব্রিটিশরাই গড়ে তুলেছেন।’’

ফ্রান্সের দক্ষিণপন্থী নেতা এরিক জেমোও মিছিলে যোগ দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা একসময় যাদের শাসন করতাম, এখন তারাই আমাদের এলাকা দখল করছে। ইউরোপীয় সংস্কৃতির বদলে ইসলামীয় সংস্কৃতি জাঁকিয়ে বসছে।’’

বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন। পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র সচিব সাবিনা মাহমুদ কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করছে, তা সব ধরনের সহিংসতা মেনে নেবে না সরকার।’’