Sunday, January 11, 2026
Latestরাজ্য​

Chicken’s Neck corridor: অশান্ত বাংলাদেশ, সীমান্তে হাইঅ্যালার্ট জারি, চিকেন’স নেকে ১২ ফুট উঁচু ফেন্সিং বসালো BSF

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মোদী সরকার। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন’স নেক বা শিলিগুড়ি করিডর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় নতুন নকশার সীমান্ত বেড়া বা নিউ ডিজাইন ফেন্সিং (এনডিএফ) বসিয়েছে।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংবেদনশীল সীমান্ত অংশগুলিতে ১২ ফুট উচ্চতার অত্যাধুনিক এই বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এই বেড়া কাটা বা টপকানো অত্যন্ত কঠিন এবং তা কাটতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। ফলে অনুপ্রবেশ, গবাদিপশু পাচার ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

এলাকা আধিপত্য বজায় রাখতে বিএসএফ তাদের অপারেশনাল কৌশলেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। সীমান্ত সংলগ্ন যে সমস্ত এলাকা গবাদিপশু সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলিকে চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সূত্রের দাবি, পাচার চক্রের মূল শিকড়ে আঘাত হানতে প্রয়োজনে বিএসএফ দলগুলি ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভুলবশত বা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ। পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পটভূমি যাচাইয়ের পর তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আঙুলের ছাপ ও ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে, যাতে কোনও অপরাধমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত বিএসএফ প্রায় ৮৫ কোটি টাকার পাচারকৃত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, সোনা, রুপো, বন্যপ্রাণীর অংশ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য। এই সময়ের মধ্যে ৪৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১৫২ জন ভারতীয় এবং ১১ জন অন্যান্য দেশের নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৮৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএসএফ কর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনে সীমান্তে বেড়ার আওতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ড্রোন, সেন্সর ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধ দমনে অভিযান আরও তীব্র করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতিতেই চিকেন’স নেক অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না—এ কথা স্পষ্ট করেছে বিএসএফ।