Thursday, March 26, 2026
Latestরাজ্য​

Kalita Majhi: পেশায় পরিচারিকা, মাসে রোজগার ৩-৪ হাজার, আউশগ্রাম থেকে বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪ জনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেই তালিকায় পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে কলিতা মাজিকে। পেশায় পরিচারিকা এই সাধারণ পরিবারের নারীকে টিকিট দেওয়ায় আবারও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি প্রথমবার কলিতা মাজিকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভেদানন্দ থান্ডারের কাছে পরাজিত হন। অভেদানন্দ পান ১,০০,৩৯২ ভোট, আর কলিতা মাজি পান ৮৮,৫৭৭ ভোট। পরাজয়ের পরও দলের আস্থা অটুট থাকায় ২০২৬ বিধানসভা ভোটে ফের তাঁকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি।

পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি। গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি। পরিবারে স্বামী সুব্রত মাজি ও এক ছেলে রয়েছে। স্বামী পেশায় প্লাম্বার এবং ছেলে পার্থ এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে মাসে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা উপার্জন করেন কলিতা।

দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। দলের কাজের পাশাপাশি সংসার সামলানোর দায়িত্বও সমানভাবে পালন করেছেন। প্রথমবার টিকিট পাওয়ার সময় তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারেননি যে বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন। এবারও টিকিট পাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

তবে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কলিতা মাজি। তাঁর কথায়, “সততার সঙ্গে লড়ব এবং জিতব।” প্রথমবারের মতো এবারও প্রায় খালি হাতেই ভোটে নামছেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দলের ভরসার মর্যাদা রাখতে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার উপরই জোর দিচ্ছেন।

আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি তপসিলি জাতি সংরক্ষিত এবং বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। এই কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগই কলিতার বড় শক্তি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর দাবি, দরিদ্র মানুষের সমস্যা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং বুঝেছেন।

নির্বাচনে জিতলে এলাকার উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি, কারণ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বর্ধমান শহরে যেতে হয়। পাশাপাশি, আর্থিক সমস্যার কারণে নিজের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে চান।

উল্লেখ্য, কলিতা মাজির প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি কলিতাকে রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে বলেছেন, মর্যাদা ও আত্মসম্মান বজায় রেখে লড়াই করা তাঁর জীবনসংগ্রাম সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণা।

সব মিলিয়ে, সাধারণ জীবনের সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক নারীর লড়াই ও রাজনৈতিক যাত্রা এবার আউশগ্রামের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।