Thursday, February 26, 2026
Latestরাজ্য​

৯ দিনে ৭৭ লাখ আবেদন, যুব সাথীর ফরম ফিলাপের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’ চালু হতেই ব্যাপক সাড়া। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথম ৯ দিনেই প্রায় ৭৬ লক্ষ ৭৭ হাজার (প্রায় ৭৭ লক্ষ) বেকার যুবক-যুবতী আবেদন করেছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এত বিপুল সাড়া দেখে ভোটের আগে আবেদনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে, এমনই ইঙ্গিত মিলছে প্রশাসনিক মহল থেকে।

বাজেট ঘোষণা থেকে আগাম সূচনা

চলতি বছরের বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। প্রথমে ভোটের পর প্রকল্প চালুর কথা থাকলেও পরে সিদ্ধান্ত বদল করে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়। সরকারের যুক্তি—চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়ায় তরুণদের আর্থিক সহায়তা দিতেই এই ভাতা।

জেলাভিত্তিক আবেদন 

বুধবার পর্যন্ত মোট আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৭৬.৭৭ লক্ষ।

সবচেয়ে বেশি আবেদন: দক্ষিণ ২৪ পরগনা

দ্বিতীয়: উত্তর ২৪ পরগনা

এর পরের জেলাগুলি: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া

প্রশাসনের দাবি, অনলাইন ও ক্যাম্প—দুই মাধ্যমেই আবেদন জমা পড়ছে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

শিক্ষাগত যোগ্যতা

মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

বয়সসীমা

২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

অন্যান্য শর্ত

রাজ্য সরকারের অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাভোগী হলে আবেদন করা যাবে না।

অর্থাৎ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবশ্রী-র সুবিধা পেলে ‘যুবসাথী’তে আবেদন অযোগ্য।

তবে পড়াশোনার স্কলারশিপ/বৃত্তি পেলে তা বাধা নয়।

কী কী নথি লাগবে?

মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ)

মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট

আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড

ব্যাঙ্ক পাসবুক বা ক্যানসেল চেক

কাস্ট সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

ভাতার পরিমাণ

২১–৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাস যুবক-যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চাকরি খোঁজার সময় অন্তর্বর্তী আর্থিক সহায়তাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

প্রশাসনিক ভাবনা

প্রথম ৯ দিনেই প্রায় ৭৭ লক্ষ আবেদন—এই পরিসংখ্যানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসন। আবেদনপত্রের ঢল অব্যাহত তাই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্রুতই নেওয়া হতে পারে। ভোটের আগে এই প্রকল্প রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।