Wednesday, January 7, 2026
Latestরাজ্য​

Sandeshkhali: সন্দেশখালিতে পুলিশের উপর হামলা, আহত ৬ পুলিশ, গ্রেফতার ৯

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ফের উত্তেজনা ছড়াল। আক্রান্ত পুলিশ। রীতিমতো পুলিশের উপর হামলা। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ পুলিশ আধিকারিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূলকর্মী হিসেবে পরিচিত মুসা মোল্লা এবং তার অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।

পুলিশ জানায়, মুসা মোল্লার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ ছিল। সেই জমির উপর আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ওই জমিতে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করেন মুসা। বিষয়টি জানতে পেরে রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ বয়ারমারি এলাকায় তার বাড়িতে যায় এবং তাকে থানায় যেতে বলা হয়।

ঠিক সেই সময়েই মুসা তার অনুগামীদের ফোন করে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। ঘটনায় আহত হন ৬ জন পুলিশকর্মী। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিনাখাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে সকলকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বয়ারমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন, “দলের কেউ যদি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও সন্দেশখালির নাম উঠে এসেছিল বড়সড় হিংসার ঘটনায়। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিল ইডি। ইডির দাবি, সে দিন ৮০০ থেকে ১০০০ জন শাহজাহানের অনুগামী তাঁদের ঘিরে ধরেন। হামলায় ইডির ৩ আধিকারিক আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযান অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে যেতে হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।

পরে আদালতে ইডি জানায়, ঘটনার সময় শাহজাহান শেখ বাড়ির ভিতরেই ছিলেন এবং সেখান থেকেই ফোন করে লোক জড়ো করেছিলেন। হট্টগোলের মাঝেই শাহজাহান পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়। বর্তমানে শাহজাহান জেলবন্দি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। জেলবন্দি অবস্থাতেও সন্দেশখালির বিভিন্ন বাসিন্দাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

পরপর এই ধরনের ঘটনার জেরে সন্দেশখালির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।