শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো অসম, কেরলম এবং পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে অসম, কেরল এবং পুদুচেরির ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অসমের ১২৬টি, কেরলের ১৪০টি এবং পুদুচেরির ৩০টি আসনে এক দফাতেই ভোট নেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রাথমিক হিসেবেই উচ্চ ভোটদানের ইঙ্গিত মিলেছিল—অসমে ৮৪.৪২ শতাংশ, কেরলে ৭৫.০১ শতাংশ এবং পুদুচেরিতে ৮৬.৯২ শতাংশ ভোট পড়ে। চূড়ান্ত হিসেবে অসমে ৮৫.৩৮ শতাংশ এবং পুদুচেরিতে ৮৯.৮৩ শতাংশ ভোটদান রেকর্ড হয়েছে, যা এই দুই অঞ্চলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কেরলেও ভোটের হার পৌঁছেছে ৭৮.০৩ শতাংশে, যা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এই ভোটকে “ভারত তথা বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য ঐতিহাসিক সাক্ষ্য” বলে উল্লেখ করেছেন এবং তিন রাজ্যের ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ভোটের দিনে রাজনৈতিক শিবিরগুলির শীর্ষ নেতৃত্বও অংশ নেন ভোটপ্রক্রিয়ায়। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী Pinarayi Vijayan কন্নুরে ভোট দেন। পুদুচেরির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী V. Narayanasamy একটি সরকারি স্কুলে ভোট দেন। অন্যদিকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma ভোটের দিন সকালে বাড়িতে পুজোয় অংশ নেন।
অসম: ‘জাতি-মাটি-ভেটি’ বনাম বিভাজনের অভিযোগ
অসমে নির্বাচনী প্রচারে মূল ইস্যু হয়ে ওঠে ‘জাতি-মাটি-ভেটি’ স্লোগান। বিজেপি দাবি করেছে, তারা অসমের ভূমি ও সংস্কৃতি রক্ষা করবে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে। অন্যদিকে কংগ্রেস এই প্রচারকে ‘ঘৃণার রাজনীতি’ বলে আক্রমণ করে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা।
২০২৩ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাস
নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্গঠনের পর এই প্রথম নির্বাচন হওয়ায় রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম প্রভাবিত আসনের সংখ্যা ৩২ থেকে কমে ২২-এ নেমে এসেছে, যা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
আসন ভাগাভাগিতে বিজেপি ৯০টি আসনে, অসম গণপরিষদ ২৬টি এবং বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ৯৯টি আসনে লড়েছে, বাকি আসন সহযোগী দলগুলির জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের প্রচারের মুখ ছিলেন সাংসদ গৌরব গগৈ।
কেরল: ত্রিমুখী লড়াই, নজরে বিজেপির অগ্রগতি
কেরলে ১৪০ আসনের নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে—বামফ্রন্ট, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার তাদের ১০ বছরের শাসন, উন্নয়ন এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পকে সামনে রেখে ভোট চেয়েছে।
অন্যদিকে ইউডিএফ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছে। বিজেপিও গত স্থানীয় নির্বাচনে সাফল্যের জেরে এবার কিছুটা ভালো ফলের আশায়, বিশেষ করে তিরুবনন্তপুরমে মেয়র পদ জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
পুদুচেরি: জোটের লড়াই, নতুন দলের আত্মপ্রকাশ
পুদুচেরিতে মূল লড়াই এনআর কংগ্রেস-বিজেপি-এআইএডিএমকে জোটের সঙ্গে কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের। ৩০ আসনের এই বিধানসভায় অভিনেতা বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ (TVK) প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যদিও তাদের প্রধান ফোকাস তামিলনাড়ু।
ফল ঘোষণা ৪ মে
তিন রাজ্যের ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে, ২০২৬। উচ্চ ভোটদানের ফলে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। এখন নজর ফলাফলের দিকে—কোন রাজ্যে কার সরকার গড়ে ওঠে, সেটাই দেখার।


