দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটান সুইসাইড বোম্বার উমর মহম্মদ, উদ্ধার ছিন্নভিন্ন হাত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল। সূত্রের খবর, আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করতে গিয়েই হাতে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণ হওয়া হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি বিস্ফোরণের আগে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ৩টা ১৯ মিনিট নাগাদ গাড়িটি লালকেল্লা সংলগ্ন এক পার্কিং লটে প্রবেশ করে। সন্দেহভাজন সেই সময় গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। পুলিশের অনুমান, কোথায় বিস্ফোরণ ঘটালে নাশকতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি হবে, তা যাচাই করতেই গাড়িটি পার্কিং লটে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রাখা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট নাগাদ গাড়িটি বেরিয়ে আসে। সেই সময় আশপাশে যানজট থাকলেও গাড়িটি লালকেল্লা, দরিয়াগঞ্জ, কাশ্মীর গেট প্রভৃতি এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
ফরেনসিক টিম বিস্ফোরণস্থল থেকে একটি ছিন্ন হাতের অংশ উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেটি আত্মঘাতী হামলাকারী ডক্টর উমর মহম্মদ নবির। পুলিশের দাবি, বিস্ফোরণের সময় গাড়িটি উমরই চালাচ্ছিল এবং সেও বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে। শনাক্তকরণের জন্য ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার দেহাংশের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ছিল উমর। জন্ম ১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, পিতা গোলাম নবি ভাট। সে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার কোলি এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, অনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক আদিলের ঘনিষ্ঠ ছিল উমর। চরমপন্থী চিকিৎসকদের একটি গোষ্ঠী, যারা ‘টেলিগ্রাম’ প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়, সেই গোষ্ঠীরও সদস্য ছিল সে।
উমর অনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমডি শেষ করে সেখানেই সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছিল। পরবর্তীতে সে দিল্লিতে চলে আসে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ফরিদাবাদ থেকে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, একে-৪৭ রাইফেল, কার্তুজ ও ম্যাগাজিন উদ্ধারের পর উমর গা-ঢাকা দেয়। পুলিশের দৃঢ় সন্দেহ, ফরিদাবাদ মডিউলই লালকেল্লা বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ইতিমধ্যেই পুলওয়ামা থেকে উমরের মা ও ভাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, উমরের সহযোগী চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের গ্রেফতারির পরই আত্মঘাতী হামলার সিদ্ধান্ত নেয় উমর।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১-এ দাঁড়িয়েছে। গাড়ির মালিক মহম্মদ সলমনকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি জানিয়েছেন, দেড় বছর আগে গাড়িটি বিক্রি করে দেন তিনি, এরপর আরও দুই হাত ঘুরে সেটি পুলওয়ামার তারিকের কাছে পৌঁছয়। তাকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
পুলিশের মতে, ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্রই লালকেল্লা বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত, আর তার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন চিকিৎসক উমর নবি।
এই ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল ফরিদাবাদ মডিউলের বাকি সদস্যদের খোঁজে রাজ্য জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।


