Monday, March 30, 2026
Latestরাজ্য​

Amit Shah: অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার বিজেপির লক্ষ্য বঙ্গ: পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী অমিত শাহ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে জোরালো বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah )। কলকাতায় বিশেষ সফরে এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, অঙ্গ ও কলিঙ্গে সাফল্যের পর এবার লক্ষ্য বঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়তে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি।

এবারের পশ্চিমবঙ্গ সফরে অমিত শাহ তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে সরব হন। প্রায় ১৫ বছরের শাসনকালকে কেন্দ্র করে তিনি একটি ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেন, যেখানে রাজ্যের প্রশাসন, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থান ইস্যুতে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। কলকাতার এই সভায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

নিজের বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, “অনেক বছর পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় একই রাজনৈতিক দলের সরকার হতে পারে।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অঙ্গ (বিহার), বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ) ও কলিঙ্গ (ওড়িশা) এই তিন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একই রাজনৈতিক শক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

অমিত শাহ বিজেপির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) ২০১৫ সালে এনডিএ সরকার, আসামে (Assam) ২০১৬ সালে প্রথম বিজেপি সরকার, ২০১৭ সালে মণিপুর (Manipur), হরিয়ানা (Haryana) ও অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) ক্ষমতা দখল, ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় (Tripura) ঐতিহাসিক জয়, ২০২৪ সালে ওড়িশায় (Odisha) প্রথমবার সরকার গঠন এবং ২০২৫ সালে বিহারে (Bihar) এনডিএ সরকার—এই ধারাবাহিকতার পর ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক কৌশলকেও তীব্র আক্রমণ করেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ‘ভিক্টিম কার্ড’ ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এবার সেই কৌশল সফল হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, “অসমে অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়েছে, এখন পশ্চিমবঙ্গের ভোটই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।” তাঁর মতে, রাজ্যে তৃণমূলের শাসনে অরাজকতা ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিবর্তন দরকার। কর্মসংস্থান ইস্যুতেও তিনি তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন। 

অমিত শাহের দাবি, “কাটমানি, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির কারণে শিল্পে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে চাকরি কমছে, বেতন কম এবং সাধারণ মানুষের আয় সীমিত হয়ে পড়ছে।”