‘চূড়ান্ত ব্যর্থ পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসন’, কালিয়াচক কান্ডে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে SIR (Special Intensive Revision)-এর কাজে নিযুক্ত সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে।
কী ঘটেছিল কালিয়াচকে
মালদার কালিয়াচকে নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের কাজ (SIR) করতে গিয়ে সাত বিচারক স্থানীয় বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ, তাঁদের ঘিরে ফেলে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, মুক্তির পর ফেরার সময় তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোড়া এবং লাঠি নিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।
রাত গভীর হওয়ার পর অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিচারকদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এই পুরো ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের তীব্র পর্যবেক্ষণ
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলে, বিচারকদের আটকে রাখা পরিকল্পিত আক্রমণ। এটি সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা। রাজ্য প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতি।
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, কেন মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং জেলাশাসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? কেন তাঁরা সময়মতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেন না?
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাত ১১টা পর্যন্ত জেলাশাসক ঘটনাস্থলে যাননি। পুলিশ সুপারও অনুপস্থিত ছিলেন। বিচারকদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি
আদালতের মতে, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
‘রাজনৈতিক মেরুকরণ’ নিয়ে কটাক্ষ
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে তিরস্কার করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাদের ব্যর্থতায় এটা ঘটেছে। আপনারা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে আচরণ করছেন। এমন রাজনৈতিক মেরুকরণ দেশের কোথাও দেখিনি।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা আদালতের অজানা নয়।
হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে উদ্ধার
এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রিপোর্ট পাঠানোর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্রসচিব সক্রিয় হন এবং রাত ১২টার পর বিচারকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
CBI বা NIA তদন্তের সম্ভাবনা
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার তদন্তে CBI বা NIA-র সাহায্য চাইতে পারে। আদালত সেই অনুমতিও দিয়েছে।
বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন
কালিয়াচকের এই ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
এই ঘটনায় এখন নজর থাকবে রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।


