Chingrighata Metro: মে মাস থেকে শুরু হবে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ, এনওসি দিল কলকাতা পুলিশ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘ টালবাহানা এবং আইনি জটিলতার পর অবশেষে চিংড়িঘাটায় মেট্রো পিলার নির্মাণে সবুজ সঙ্কেত দিল কলকাতা পুলিশ। এনওসি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। নিউ গড়িয়া–বিমানবন্দর মেট্রো রুটের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বহুদিন ধরে আটকে ছিলো। জানা গেছে, ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর, মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই প্রকল্পের কাজ। প্রশাসন সূত্রে খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে বছরের শেষের দিকেই এই লাইনে মেট্রো চলাচল শুরু হতে পারে।
নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন
কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের এই অংশটি নিউ গড়িয়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত পরিষেবা চালু থাকলেও চিংড়িঘাটার কাজ আটকে থাকায় সম্প্রসারণ সম্ভব হয়নি। এই অংশ চালু হলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী উপকৃত হবেন, বিশেষ করে আইটি হাব সেক্টর ফাইভে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
কোথায় জট?
মূলত চিংড়িঘাটা মোড়ে ইএম বাইপাসের উপর ৩টি পিলার নির্মাণ নিয়েই সমস্যা তৈরি হয়। ব্যস্ততম এই সড়ক আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হলে ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই বারবার আপত্তি জানিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। যদিও বিকল্প রাস্তা তৈরি এবং রাতের বেলায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL), তবুও শুরুতে অনুমতি মেলেনি।
আদালতের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে এবং বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এনওসি মিলল, কিন্তু দেরি কেন?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ এনওসি-তে সই করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন অবিলম্বে কাজ শুরু হচ্ছে না? পুলিশের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন ইএম বাইপাসে যানবাহনের চাপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে রাস্তা বন্ধ করে কাজ করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই ভোট শেষ হওয়ার পর মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা?
আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে কমিশনার অজয় নন্দের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তিনি বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন। ভোটের পর প্রশাসনিক পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি কী হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি নয়, পদই গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগোবে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
নতুন দিগন্ত খুলবে
দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে চিংড়িঘাটার মেট্রো পিলার নির্মাণে সবুজ সঙ্কেত মিললেও বাস্তবায়নের জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে সব বাধা কাটিয়ে প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


