Friday, May 1, 2026
Latestরাজ্য​

ভোট ঘোষণার দিনেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। রবিবার রাতেই নির্দেশ জারি করে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব—এই দুই শীর্ষ আমলাকে সরিয়ে দেওয়া হল।

নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তিনি এতদিন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব ছিলেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও কারা দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। তিনি এতদিন হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

এদিন পর্যন্ত বাংলার মুখ্যসচিব ছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty) এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন জগদীশ প্রসাদ মীনা (Jagdeesh Prasad Meena)। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা থাকে প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করার। অতীতেও ভোটের আগে বিভিন্ন প্রশাসনিক রদবদল হয়েছে। তবে একই সঙ্গে রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব। অন্তত আটজন সিনিয়র অফিসারকে এড়িয়ে তাঁকে এই পদে বসানো হয়েছিল, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তাঁকে দিল্লিতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জাতীয় নির্বাচন ভবনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে কড়া সতর্কবার্তার মুখে পড়েন তিনি।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে অসম, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ‘কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। সাধারণত কোনও রাজ্যের মুখ্যসচিব বা স্বরাষ্ট্রসচিবকে এই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

নবান্নের তরফে চিঠি দিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ ৯ জন আইএএস আধিকারিককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও কমিশন তা খারিজ করে দেয়। রবিবারের নির্দেশে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নন্দিনী চক্রবর্তী ও জগদীশ প্রসাদ মীনাকে শুধু পদ থেকেই সরানো হচ্ছে না, ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও দায়িত্বেও রাখা যাবে না।

রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar ঘোষণা করেন, বাংলায় দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ করবে।

এই প্রেক্ষাপটেই কমিশন রাজ্যের কাছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কোন কোন পুলিশ আধিকারিকের এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই তালিকা সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। ওই তালিকা খতিয়ে দেখে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ফলে ভোটের আগেই প্রশাসনিক মহলে এই রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যসচিব পদে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনী আবহে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।