Sonam Wangchuk: ৬ মাস পর জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সোনাম ওয়াংচুক
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রায় ৬ মাসের বন্দিদশার অবসান। অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন লাদাখের প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (National Security Act) আওতায় আটকাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে রাজস্থানের যোধপুর (Jodhpur) সেন্ট্রাল জেল থেকে তাঁর মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে লাদাখে আন্দোলনের জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর প্রশাসনের নির্দেশে তাঁকে লাদাখ থেকে সরিয়ে রাজস্থানের জোধপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন পরিবেশকর্মী, ছাত্র সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের (Sixth Schedule of the Constitution of India) আওতায় আনার দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন ওয়াংচুক। একই সঙ্গে তিনি হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং লাদাখের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের দাবিও তুলে ধরছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লেহ শহরে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, ওই আন্দোলনে ওয়াংচুকের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। এরপরই তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়।
গ্রেফতারের আগেই কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংস্থা লাদাখের ছাত্র শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের (Students’ Educational and Cultural Movement of Ladakh) বিদেশি অনুদান গ্রহণের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়। অভিযোগ ছিল বিদেশি তহবিল সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের।
এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল বলেও সূত্রের খবর। যদিও ওয়াংচুক ও তাঁর সহযোগীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
ওয়াংচুকের আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাদাখে চলমান আন্দোলন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বের আলোচনার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুক। তিনি লাদাখে বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাঁর উদ্ভাবিত আইস স্টূপা (Ice Stupa) প্রকল্প আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন তিনি।
এদিকে ছয় মাস পর তাঁর মুক্তিকে ঘিরে লাদাখে সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ওয়াংচুকের মুক্তির ফলে লাদাখের স্বশাসন ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন নতুন গতি পেতে পারে।


