Sunday, March 15, 2026
Latestরাজ্য​

বাংলায় পরিবর্তন জরুরি, এবার পরিবর্তন না হলে বাংলা অন্ধকারে ডুবে যাবে: ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আরজি কর পর্বের সময় থেকেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে বহু মানুষের নজর কেড়েছিলেন চিকিৎসক ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বামপন্থী মতাদর্শের মানুষ তিনি। কিন্তু শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির জনসভায় তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিস্ময় ও জল্পনা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভায় ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলায় পরিবর্তন এখন অত্যন্ত জরুরি, না হলে রাজ্য আরও অন্ধকারের দিকে এগোবে।’

 

ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ বিজেপির ডাকে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় গিয়েছিলাম। কেন গিয়েছিলাম তার কারণ পরিষ্কার। আমরা যাঁরা তৃণমূলকে পছন্দ করি না, এই ব্যাপারে আমরা অনেকেই একমত।”

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে বাংলার শিক্ষা কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এক শিক্ষা মন্ত্রীর বাড়ি থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার হয়েছে এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।”

রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, “রাজ্যের আর্থিক সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন উৎসব ও মেলায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, গত পনেরো বছরে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনও পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়নি এবং উন্নয়নের সুস্পষ্ট ভিশনও দেখা যায়নি।”

ডা. বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি মনে করি পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার জন্য এটা একদম ঠিক সময়। ২০২৬ সালে যদি বাংলায় পরিবর্তন না হয় এবং আবার একই শাসন ফিরে আসে, তাহলে বাংলার ভবিষ্যৎ অথৈ জলে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তন করতে চাইলে যারা পরিবর্তন করতে পারবে তাদের সঙ্গেই থাকা উচিত। আমি নিজের ইচ্ছাতেই সেখানে গিয়েছি। আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, এবং মনে হয়েছে পরিবর্তনের প্রশ্নে সেখানে থাকা প্রয়োজন।”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, মোদীর ভাষণ তাঁর ভাল লেগেছে এবং তিনি মনে করেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট ভিশন রয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা শুধু শুরু।”

ডা. বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, “বাংলা কোনওদিন ব্যবসার জন্য পরিচিত ছিল না, বরং শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্যই বিখ্যাত ছিল। সেই গরিমা আবার ফিরে আসুক—এইটাই আমাদের সবার কাম্য।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেডে উপস্থিতি এবং পরিবর্তনের পক্ষে তাঁর এই সরাসরি বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বামপন্থী ঘরানার কিছু ভোটারের মধ্যে যাঁরা তৃণমূলের বিরোধিতা করলেও বিজেপিকে সমর্থন করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, তাঁদের কাছে এই অবস্থান নতুন বার্তা বহন করতে পারে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান যেখানে একসময় বামপন্থী অংশের মধ্যে প্রবল ছিল, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।