Tuesday, February 3, 2026
Latestরাজ্য​

‘SIR আবহে আরও বেশি ভোটে জিতবে তৃণমূল’, দাবি মমতার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ফের তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাংলার মানুষের দুর্দশার কথা দেশের সামনে তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসআইআর চালানো হচ্ছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বেআইনিভাবে বাদ পড়েছে।

এদিন মমতা দাবি করেন, বাংলায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অথচ সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের স্বাক্ষর পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। “এটা সম্পূর্ণ বেআইনি,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের খাতায় বহু জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হয়েছে। এই তথ্য অসংগতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেও এখনও তা মানা হয়নি। বরং ‘তথ্য অসংগতি’ শব্দ পাল্টে এখন একে ‘লজিক্যাল ম্যাপিং ডিসক্রিপান্সি’ বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“কমিশনকে ছ’টি চিঠি, একটিও জবাব নয়”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনকে ছ’টি চিঠি লিখেছেন, কিন্তু একটিরও উত্তর মেলেনি। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছে না কমিশন। কোনও পথ খোলা ছিল না বলেই আমাদের কথা বলতে হচ্ছে।”

মমতা প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলোতেই তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। “চারটি রাজ্যে ভোট, কিন্তু আসামে এসআইআর নেই। পরিকল্পনা নেই, পরিকাঠামো নেই—এটাই কি গণতন্ত্র?”—বলেন তিনি।

মৃত্যুর অভিযোগ

এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে—কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, “৯০ বছরের বৃদ্ধা, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অক্সিজেন নিয়ে মানুষ শুনানিতে আসছেন। এটা কি গণতন্ত্র?”

সংখ্যালঘু ও মতুয়া ভোটারদের টার্গেট করার অভিযোগ

মমতার অভিযোগ, এসআইআর-এর আড়ালে সংখ্যালঘু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। “বাংলায় ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু। বলুন তো, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেবেন?”—প্রশ্ন করেন তিনি।

বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টারও তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কমিশন–বিজেপির পালটা অভিযোগ

সোমবার নির্বাচন ভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই এই তরজা চরমে ওঠে। কমিশনের পালটা বয়ানে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা কমিশন ও আধিকারিকদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং ইআরও অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

যদিও মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দেন মমতা। তিনি জানান, বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় অনেক প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে চান না।

এসআইআর হলেও আরও বেশি ভোটে জিতব”

এসআইআর বাংলার ভোটে প্রভাব ফেলবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, “আরও বেশি ভোটে জিতব।”

তবে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে এই প্রক্রিয়া হলে এত বিপর্যয় হত না।

এসআইআর ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাতের আবহে বাংলার ভোট রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনেই স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।