Afghanistan: একবিংশ শতাব্দীতে এসে আফগানিস্তানে বর্ণবাদ-দাসপ্রথাকে আইনি স্বীকৃতি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ফের দাসপ্রথা ও বর্ণভিত্তিক বিচারব্যবস্থাকে আইনি স্বীকৃতি দিল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। সদ্য জারি হওয়া ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড ফর কোর্টস’–এ ‘গোলাম’ বা দাস শব্দের ব্যবহার এবং সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক শাস্তির বিধান ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির কড়া আপত্তি সত্ত্বেও আইনটি প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তালিবান প্রশাসন।
নয়া ফৌজদারি বিধির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—
১) ধর্মগুরু (মোল্লা ও উলেমা),
২) আশরফ বা অভিজাত শ্রেণি,
৩) মধ্যবিত্ত,
৪) নীচু শ্রেণি।
এই শ্রেণিবিভাগের উপর নির্ভর করেই অপরাধের শাস্তি নির্ধারিত হবে বলে বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
আইনে সবচেয়ে উপরের স্তরে রাখা হয়েছে ধর্মীয় পণ্ডিতদের। কোনও অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। কেবল ‘উপদেশ’ বা ‘পরামর্শ’ দিয়েই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় স্তরে থাকা আশরফ বা অভিজাত শ্রেণির ক্ষেত্রে ডেকে পাঠিয়ে সতর্ক করার বিধান রয়েছে। তৃতীয় স্তরের মধ্যবিত্তদের জন্য কারাদণ্ডের ব্যবস্থা থাকলেও, চতুর্থ বা নীচু শ্রেণির মানুষদের ক্ষেত্রে কারাবাসের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি রয়েছে ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে, যেখানে স্পষ্টভাবে ‘দাস’ ও ‘স্বাধীন ব্যক্তি’-র মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়ায় পার্থক্য টানা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনও দাসের শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন তার ‘মালিক’ বা প্রভু নিজেই। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি কার্যত দাসপ্রথাকে পুনরুজ্জীবিত করার সামিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই কোড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং দাসপ্রথা বিরোধী চুক্তিগুলির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মানবাধিকার সংস্থা ‘রওয়াদারি’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তালিবানের এই আইন আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিরোধী আইনের চরম লঙ্ঘন।
নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও বিধিটি গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। নতুন আইনে মহিলাদের ‘নীচু শ্রেণি’-র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের শিক্ষার অধিকার নেই, স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকারও কার্যত বাতিল। সমাজজীবন থেকে মহিলাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
শিশুদের ক্ষেত্রেও শারীরিক শাস্তিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, ১০ বছরের কোনও শিশু নামাজ না পড়লে বাবা বা অভিভাবক তাকে মারধর করতে পারবেন। শুধু সেই ধরনের শারীরিক হিংসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে হাড় ভেঙে যায় বা চামড়া ছিঁড়ে যায়। অর্থাৎ ‘হালকা’ বা ‘মাঝারি’ শারীরিক নির্যাতন আইনিভাবে অনুমোদিত।
গোটা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তালিবান সরকারের অবস্থান অনড়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে এখন থেকে এই আইনই কার্যকর থাকবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এই বিধি কার্যকর হলে আফগান সমাজ আরও গভীর বৈষম্য, দমন ও সহিংসতার দিকে ঠেলে যাবে।


