ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে আমেরিকাকে আকাশপথ-ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না দীর্ঘদিনের ‘মিত্র’ সৌদি আরব ও আমিরশাহি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপের জন্য তারা নিজেদের আকাশপথ বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বিউটিফুল আর্মাডা’—১০টি যুদ্ধজাহাজ-সহ একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর বর্তমানে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন রয়েছে। শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরানের উপর চাপ তৈরি করাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। তবে এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক মিত্রদের ‘না’ আমেরিকার সামরিক কৌশলবিদদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। সেই কথোপকথনে তিনি স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনও আগ্রাসনে রিয়াদ কোনও ভাবেই অংশ নেবে না বা সহায়তা করবে না।
এর আগের দিনই একই অবস্থান স্পষ্ট করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও ‘শত্রুতামূলক সামরিক পদক্ষেপ’-এ তারা লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে না এবং তাদের ভূখণ্ড ‘স্টেজিং গ্রাউন্ড’ হিসেবেও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কোনও আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াতে চায় না সৌদি আরব ও আমিরশাহি। আমেরিকাকে তাদের মাটি বা আকাশ ব্যবহার করতে দিলে ইরানের প্রত্যাঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তেহরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে সব দেশ আমেরিকাকে সাহায্য করবে, তাদেরও শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে সৌদি ও আমিরশাহির অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই এই মুহূর্তে সাবধানী অবস্থান নিয়েছে দুই উপসাগরীয় দেশ।
বর্তমানে সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে প্রায় ২,৩০০ জন এবং আমিরশাহিতে প্রায় ৫,০০০ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করতে না পারলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর খরচ ও সময়—দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে বলে মত আমেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞদের।
তাঁদের মতে, অভিযানের জটিলতা বাড়লেও তা পুরোপুরি অসম্ভব নয়। তবে পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের মিত্রদের এই অনাগ্রহ ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পরিকল্পনার পথে বড় অন্তরায় হয়ে উঠছে বলেই মনে করা হচ্ছে।


