New UGC Equity Rules: ‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও আমরা জাতপাত থেকে বের হতে পারিনি?’, নতুন UGC বিধিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর জারি করা নতুন ‘প্রোমোশন অব ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬’-এর উপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানায়, এই নতুন বিধি সমাজে উল্টোভাবে ‘বৈষম্য’ সৃষ্টি করতে পারে।
শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও ইউজিসি-কে নোটিস পাঠিয়ে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ততদিন পর্যন্ত ইউজিসি-র ২০১২ সালের অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন রেগুলেশনই কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কী আছে ইউজিসির নতুন বিধিতে
ইউজিসির ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬-এ জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ এবং ‘ইক্যুইটি কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কমিটির সদস্য হবেন তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং মহিলা প্রতিনিধিরা।
নিয়মে আরও বলা হয়েছে, বৈষম্য রোধে হেল্পলাইন চালু, মনিটরিং ব্যবস্থা গঠন এবং নিয়মিত রিপোর্ট ইউজিসির কাছে পাঠাতে হবে। এই নির্দেশিকা কার্যকর করার দায় সরাসরি উপাচার্য ও অধ্যক্ষদের উপর বর্তাবে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন কোর্স অনুমোদন বন্ধ, ইউজিসির প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া বা এমনকি স্বীকৃতি প্রত্যাহারের মতো কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।
আপত্তির মূল কারণ কোথায়
এই নতুন বিধির বিরুদ্ধেই মূলত আপত্তি তুলেছেন অসংরক্ষিত বা জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়ারা ও শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, ‘কাস্ট-বেসড ডিসক্রিমিনেশন’-এর সংজ্ঞা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে কেবলমাত্র এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায়কেই বৈষম্যের শিকার হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে সাধারণ শ্রেণির কেউ বৈষম্যের শিকার হলেও অভিযোগ জানানোর কার্যকর কোনও পথ থাকছে না।
এছাড়াও সমালোচকদের দাবি, নতুন নিয়মে মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক, অবিশ্বাস ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, নতুন বিধি ‘অস্পষ্ট’ এবং এর ‘অপব্যবহার’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তোলেন, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছি, যা আবার জাতিভিত্তিক বিভাজনের পথে ফিরছে? জাতিহীন সমাজ গড়ার যে অর্জন, তা কি তবে নষ্ট হয়ে যাবে?”
র্যাগিং সংক্রান্ত প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে আন্তঃজাত বিয়ে হচ্ছে, ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে হস্টেলে থাকে। সেখানে আবার আলাদা হস্টেল বা অতিরিক্ত বিভাজনের প্রস্তাব দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার পটভূমি
উল্লেখ্য, এই নতুন নিয়ম এসেছে সুপ্রিম কোর্টেরই আগের নির্দেশের ভিত্তিতে। ২০১২ সালের ইউজিসি রেগুলেশন কার্যকরভাবে রূপায়ণ না হওয়ার অভিযোগে রাধিকা ভেমুলা (রোহিত ভেমুলার মা) এবং আবেদা সালিম তাদভি (পায়েল তাদভির মা) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে ইউজিসিকে আরও শক্তিশালী নিয়ম তৈরির নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই ২০২৬ সালের নতুন ইক্যুইটি রেগুলেশন আনা হয়।
১৯ মার্চ পরবর্তী শুনানি
ইউজিসির এই নতুন বিধি ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। আপাতত সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশে স্বস্তি পেলেও, আগামী ১৯ মার্চের শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা শিক্ষামহল। নতুন নিয়ম সংশোধন হবে, নাকি বাতিল— তার উত্তর দেবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতই।


