সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা ভরাতে সরকারি নির্দেশে স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে যান শিক্ষকরা! তুমুল বিতর্ক
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গুরের সভায় নিয়ে যাওয়া হয় স্কুল পড়ুয়াদের। অভিযোগ, অভিভাবকদের কোনওরকম অনুমতি না নিয়েই নালিকুল দেশবন্ধু বাণীমন্দিরের পড়ুয়াদের ওই রাজনৈতিক সভায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।
অভিযোগ, বুধবার স্কুল ছুটির পর নিয়মমাফিক পড়ুয়াদের নিতে হাজির হন অভিভাবকরা। কিন্তু তখনই দেখা যায়, স্কুল চত্বর প্রায় ফাঁকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষকরা সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে গিয়েছেন। অভিভাবকদের দাবি, এই বিষয়ে আগাম কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সভা শেষ হলে পড়ুয়াদের নিয়ে স্কুলে ফেরেন শিক্ষকরা। তখন পড়ুয়াদের হাতে ছিল বিরিয়ানির প্যাকেট। সেই দৃশ্য দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। স্কুল চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক সভায় পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া কি শিক্ষকদের কাজ? তাও আবার অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া? স্থানীয় এক অভিভাবক সুদীপ হালদার বলেন, “বাম শাসনকালে বহু বামপন্থী শিক্ষক এই স্কুলে কাজ করেছেন। পরিচালন সমিতিও বামপন্থীদের হাতেই ছিল। কিন্তু এমন ঘটনা কোনওদিন দেখিনি। রাজনীতির জন্য স্কুল আর ছাত্রদের ব্যবহার এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
আর এক অভিভাবক বলেন, “আজ সভা, কাল আবার কোথায় নিয়ে যাবে, সেই ভরসা কোথায়? এর পর থেকে তো সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেই ভয় করছে।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাদানের পরিবর্তে শিক্ষকরা পড়ুয়াদের কী শিক্ষা দিচ্ছেন?
এ প্রসঙ্গে নালিকুল দেশবন্ধু বাণীমন্দিরের প্রধান শিক্ষক গদাধর বারুই বলেন, ‘জেলা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশে ৯০ জন ছাত্র ও ৬ জন শিক্ষককে পাঠানো হয়েছিল। পড়ুয়াদের ফিরতে দেরি হওয়ায় কিছু অভিভাবকরা স্কুলে এসে বিক্ষোভ দেখায়। স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্দেশ আসায় পড়ুয়াদের অভিভাবকদের জানানো যায়নি।’
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক সভাস্থলে ছাত্রছাত্রীদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে শহর কলকাতাতেও একাধিক কলেজে এই চিত্র দেখা গিয়েছে।


