Gujarat: শিশুকন্যাকে ধর্ষণ, ৪০ দিনেই দোষীকে মৃত্যুদণ্ড দিল গুজরাটের আদালত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার বিলম্ব নিয়ে যখন দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল গুজরাটের বিচার ব্যবস্থা। ৭ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মামলায় ৪০ দিনের মধ্যেই দোষীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল রাজকোটের বিশেষ আদালত। অভিযুক্ত রাম সিং দুধওয়াকে শনিবার মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজকোট জেলার আটকোট তালুকের কানপার গ্রামের উপকণ্ঠে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি তার ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলছিল। সেই সময় মোটরসাইকেলে এসে রাম সিং তাকে পাশের একটি ঝোপে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করার পাশাপাশি তার যৌ-না-ঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে চরম নৃশংসতা চালায় সে।
ঘটনার পর দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ ডিসেম্বর অভিযুক্ত রাম সিংকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেয় তদন্তকারী দল। দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
শনিবার রাজকোটের বিশেষ আদালতের বিচারক ভি এ রানা মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই অপরাধ সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং এটি ‘রেয়ারেস্ট অফ দ্য রেয়ার’ অর্থাৎ বিরলতম বিরল অপরাধের মধ্যেই পড়ে।
রায়ের পর শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে কঠোর বার্তা দিয়েছে গুজরাট সরকার। উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ‘এফআইআর দায়ের থেকে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পর্যন্ত মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘এই রায়ের মাধ্যমে বার্তা সাফ- গুজরাটে আইনকে বিলম্বিত করে অপরাধীরা রেহাই পাবে না। শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।’ পাশাপাশি, আটকোট পকসো মামলায় দ্রুত বিচার ও দৃঢ় পদক্ষেপের জন্য রাজকোট গ্রামীণ পুলিশ, প্রসিকিউশন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইন মহলের মতে, শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি অপরাধ দমনে শক্ত বার্তা দেয়। রাজকোটের এই রায় শুধু বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাই নয়, সমাজের কাছেও স্পষ্ট বার্তা—নৃশংস অপরাধে অপরাধীর জন্য অপেক্ষা করছে কঠোরতম শাস্তি।


