Sunday, January 18, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

Machado’s Nobel peace prize: সমস্ত জল্পনার অবসান, ট্রাম্পকে নিজের নোবেল উপহার দিলেন মাচাদো

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান মাচাদো।

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম সরাসরি সাক্ষাতের পর মাচাদো বলেন, “আজ ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।” এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উপহার গ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এটি ছিল “পারস্পরিক সম্মানের এক চমৎকার নিদর্শন।” তিনি মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎকে “অত্যন্ত সম্মানজনক” বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁকে “অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়া একজন অসাধারণ নারী” হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে ২০২৪ সালের বহুল বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো জয়ের দাবি করলেও এখনো তাঁকে ভেনেজুয়েলার নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। ডেলসি রদ্রিগেজ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন মাচাদো। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে জানা যায়, স্প্যানিশ ভাষায় তিনি বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারি।”

মাচাদো জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দিয়েছেন এবং একে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের “অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে গত সপ্তাহে মাচাদো বলেছিলেন, তিনি এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। তবে বিষয়টি ঘিরে স্পষ্ট অবস্থান নেয় নোবেল কমিটি। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষণা হলে তা প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী।

নোবেল পিস সেন্টার সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, “একটি পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর পরিচয় বদলায় না।”

নিজের বক্তব্যে মাচাদো ইতিহাসের একটি উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কেস দে লাফায়েত একসময় জর্জ ওয়াশিংটনের প্রতিকৃতি খচিত একটি পদক আধুনিক ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সিমন বলিভারকে উপহার দিয়েছিলেন। মাচাদোর মতে, সেই উপহার ছিল অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।

তিনি বলেন, “দুই শতাব্দী পর বলিভারের জনগণ আজ ওয়াশিংটনের উত্তরসূরির হাতে একটি পদক তুলে দিচ্ছে—এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক—আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে।”