Monday, January 19, 2026
Latestরাজ্য​

হিন্দু যুবককে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা, প্রতিবাদে বাংলাদেশিদের ঘর ভাড়া দেবে না শিলিগুড়ি ও মালদহের হোটেল ব্যবসায়ীরা

সুদীপ বল: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিংসায় দুই হিন্দু হত্যার প্রতিবাদে এবং ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে কড়া পদক্ষেপ নিলেন শিলিগুড়ি ও মালদহের হোটেল ব্যবসায়ীরা। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে শিলিগুড়ি ও মালদহে কোনও হোটেলেই বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার জন্য ঘর দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে শিলিগুড়ির হোটেল মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, পর্যটক বা সাধারণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ঘর না দেওয়া হলেও মানবিকতার খাতিরে শিক্ষার্থী এবং মেডিকেল ভিসায় আসা রোগীদের ছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে। শিলিগুড়ির ১৮২ জন হোটেল মালিক এবং অসংখ্য ছোট হোটেলের কর্ণধাররা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, মেডিকেল কিংবা স্টুডেন্ট ভিসা, কোনও ক্যাটাগরিতেই এখন থেকে বাংলাদেশিদের ঘর ভাড়া দেওয়া হবে না।

শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পাশাপাশি সে দেশের কিছু নেতার ভারত-বিরোধী মন্তব্য, বিশেষ করে ‘চিকেন নেক’ করিডোর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে এদিন থেকে মালদহের হোটেলের দরজাও বন্ধ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য। আগে ইস্যু হওয়া পাসপোর্ট, ভিসার মেয়াদ থাকলেও মালদহ জেলায় ওপারের নাগরিকদের মিলবে না হোটেল পরিষেবা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নিধনের প্রতিবাদেই মালদহ শহরের হোটেল মালিকদের এই সিদ্ধান্ত। শহরের সমস্ত হোটেল মালিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাঁরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর বাংলাদেশে অত্যাচার চলছে। হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। তার প্রতিবাদেই এপারের হোটেল ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত, ওপার বাংলার কোনও নাগরিককে হোটেলের রুম দেওয়া হবে না। বাংলাদেশিদের জন্য মালদহের হোটেলের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে এখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। ভারতীয় সীমান্তগ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তা-ও বিভিন্ন মহল থেকে সীমান্তে অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মালদহ জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক তথা জেলা বণিকসভার সদস্য কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, “আমাদেরকে সরকারি বা বা বেসরকারিভাবে কেউ কিছু জানাননি। আমরা পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ওপারের নৃশংসতার প্রতিবাদে এমন সিদ্ধান্তের কথা সংগঠনের সদস্যদের জানিয়েছি।”

শহরের স্টেশন রোড এলাকার এক হোটেল মালিক সৌরভভদ্র রায় বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দীপু দাসের হত্যার বিচার চাইছি।” 

হোটেল মালিক সৌরভবাবু বলেন, “ওপারে গোলমাল চলছে। ওপার থেকে এপারে অনুপ্রবেশ যে হারে হচ্ছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে কোনও জঙ্গি এসে হোটেলে উঠে যেতে পারে। অঘটন বা বড়সড় নাশকতা ঘটিয়ে চলে যাবে। তার দায় কে নেবে? আমরা আতঙ্কিত। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের কোনও নাগরিককে হোটেলের রুম দেওয়া হবে না। পাসপোর্ট, ভিসা থাকলেও হবে না। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে ভিসা ইস্যু হবে না। কিন্তু আগের ইস্যু করা ভিসা নিয়ে কেউ চলে আসতে পারে। আমরা কি করে তা পরীক্ষা করব?”

জানা গিয়েছে, মালদহের ইংলিশবাজার থানার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যহ আড়াইশো থেকে তিনশোজন ভারতে আসেন। এই গোলমালের মধ্যেও আগমন অব্যাহত ছিল। যদিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ওপারের অনেক কম সংখ্যক নাগরিক ভারতে আসছিলেন। মহদিপুর হয়ে এসে প্রত্যেকেই মালদহ শহরের হোটেলে ওঠেন। তারপর ট্রেন ধরে কিংবা সড়কপথে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় চলে যান। মালদহের হোটেল মালিকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, এই জেলায় প্রচুর অনুপ্রবেশ হচ্ছে। অনেকেই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। পাসপোর্ট, ভিসা নিয়ে এলেও সেই পাসপোর্ট ভিসা জাল-ও হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যে ভয়ংকর অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে, তার জেরে বাংলাদেশিরা এপারে আক্রান্ত হতে পারেন। এপারের পরিস্থিতিও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। তা নিয়েও সতর্কিত মালদহের ব্যবসায়ীরা।