Atal Canteens: ৫ টাকায় মিলবে থালি, দিল্লিতে ১০০ ‘অটল ক্যান্টিন’-এর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লিতে এবার মিলবে ৫ টাকায় থালি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মবার্ষিকীতে ‘অটল ক্যান্টিন’-এর উদ্বোধন করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর শালিমার বাগ, রাজেন্দ্র নগর, রোহিণী, প্যাটেল নগর, বদরপুর, কারাওয়াল নগর-সহ মোট ১০০টি স্থানে ক্যান্টিন চালু হয়েছে। প্রতিটি ক্যান্টিনে সকাল ও সন্ধ্যায় মিলিয়ে দৈনিক ৫০০ প্লেট খাবার পরিবেশন করা হবে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ভাত, ডাল, রুটি, সব্জি ও আচার পাওয়া যাবে। প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ জন মানুষ এই ক্যান্টিন থেকে খাবার পেতে পারবেন বলে অনুমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেন, “এই ক্যান্টিনগুলির মূল লক্ষ্য হল নিম্ন আয়ের শ্রমিক, রিকশাচালক, কর্মজীবী মানুষ এবং দরিদ্রদের জন্য দিনের বেলায় সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা।” তিনি আরও জানান, “সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি মৌলিক বিষয়—রোটি, কাপড় ও মকান। কিন্তু বাস্তবে দেশের বহু মানুষ আজও দু’বেলা খাবারের সংস্থান করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। সেই কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, ‘অটল ক্যান্টিন’ প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের কর্মরত দরিদ্র শ্রেণির মানুষ উপকৃত হবেন। ভবিষ্যতে চাহিদা ও সাফল্যের ভিত্তিতে ক্যান্টিনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার এই প্রকল্পটি বিজেপির দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনী ইস্তেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেন, “এই প্রকল্পের মূল ভাবনা হল মর্যাদার সঙ্গে খাবার প্রদান।” তাঁর কথায়, “অটল ক্যান্টিন দিল্লির আত্মা হয়ে উঠবে, এমন একটি জায়গা যেখানে কেউ না খেয়ে ঘুমোবে না। শহর গড়ে তোলা শ্রমজীবী মানুষেরা যেন দু’বেলা খাবারের জন্য লড়াই করতে বাধ্য না হন, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।”
সরকার জানিয়েছে, খাবারের দাম ৫ টাকা রাখতে পুরো প্রকল্পে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। প্রথম পর্যায়ের ১০০টি ক্যান্টিনের জন্য স্থান নির্বাচন, মেনু এবং পরিচালন সংক্রান্ত নীতিমালা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুরু থেকেই সব ক্যান্টিনে একই মান ও পরিষেবা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও অনিয়ম রোধে খাবার বিতরণ করা হবে ডিজিটাল টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে। প্রতিটি ক্যান্টিনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে রিয়েল-টাইম নজরদারি চলবে।
রান্নাঘরগুলিতে এলপিজি-চালিত চুল্লি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মানের আর ও জল পরিশোধন ব্যবস্থা এবং কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা থাকবে। নিয়মিতভাবে FSSAI ও NABL অনুমোদিত পরীক্ষাগারে খাবারের নমুনা পরীক্ষা করবে। পাশাপাশি, ক্যান্টিন পরিচালকদের প্রতি মাসে স্বাস্থ্যবিধি, কর্মীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এই উদ্যোগ অটলবিহারী বাজপেয়ীর সেই বিশ্বাস থেকেই অনুপ্রাণিত। দারিদ্র্য শুধু টাকার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও। এই প্রকল্প কোনও দয়া নয়, বরং ন্যায্যতার প্রশ্ন।”
প্রথম পর্যায় সফল হলে জনসাধারণের চাহিদা ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অটল ক্যান্টিনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটি কিচেনগুলিকে যুক্ত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে সরকার।


