দিল্লি বিস্ফোরণকান্ডে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ২ চিকিৎসক, ২ কর্মী-সহ আটক ৫
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষ করে চিকিৎসকরা জড়িত একটি ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ গোটা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। নজরে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়।
কানপুর থেকে আটক মেডিক্যাল ছাত্র আরিফ
বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে আটক করা হয়েছে ৩২ বছরের এক মেডিক্যাল ছাত্র—মহম্মদ আরিফ মীরকে। গণেশ শঙ্কর বিদ্যার্থী মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের কার্ডিওলজি ছাত্র আরিফ অশোকনগরের এক ভাড়াবাড়িতে থাকত। তদন্তকারীদের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গি চিকিৎসক ড. উমর উন নবির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পাশাপাশি ফরিদাবাদ-কাণ্ডে ধৃত মহিলা চিকিৎসক শাহিন সাঈদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সে। আরিফের ভাড়া বাড়ি তল্লাশি করে তার মোবাইল ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
হাপুর থেকে পাকড়াও গাইনোকোলজিস্ট ড. ফারুক
একই দিনে হাপুরের জিএস মেডিকেল কলেজের গাইনোকোলজিস্ট ড. ফারুককেও আটক করেছে এটিএস। জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা এই চিকিৎসক পড়াশোনার সূত্রে পরিচিত ছিলেন ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হওয়া ড. মুজাম্মিল শাকিল গণাইয়ের সঙ্গে। পরে দু’জনকেই তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র হাতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে দিল্লিতে।
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের ভূমিকা
তদন্তে আরও মিলেছে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিয়োগ চক্র’-এর অস্তিত্ব। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী মহম্মদ জামিল, কম্পাউন্ডার ওয়াসিদ খান এবং তার শ্যালক মহম্মদ ফাহিমকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাশ্মীরি চিকিৎসকদের নিয়োগ করিয়ে দেওয়ার মূল দায়িত্বে ছিলেন জামিল। তার ফোন ও ল্যাপটপ ইতিমধ্যেই ফরেনসিক তদন্তে পাঠানো হয়েছে।
‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’—ডাক্তারের ছদ্মবেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক
এই চিকিৎসকদের জঙ্গি মডিউলকে ইতিমধ্যেই ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ আখ্যা দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। ধৃতদের জেরা করতে গিয়ে উঠে এসেছে ড. মুজাফ্ফর-এর নাম, যাকে ধরতে ইন্টারপোলের সাহায্য নিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।
ড. মুজাফ্ফর হলেন আদিল আহমেদ রাদারের ভাই—যিনি বিস্ফোরক উদ্ধার মামলায় সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেফতার। তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ সালে তুরস্ক সফরে যাওয়া যে সন্দেহভাজন ডাক্তারদের দল ছিল, সেখানে ছিলেন ড. মুজাফ্ফরও। পরে ২০২২ সালে ধৃত ড. মুজাম্মিল এবং দিল্লি বিস্ফোরণের অভিযুক্ত ড. উমর উন নবির সঙ্গে তিনি ফের তুরস্কে যান। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি, সেই সফরে পাকিস্তানের আইএসআই-এর এক হ্যান্ডলারের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন তারা।
নজরে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়
এখন পর্যন্ত তদন্তে স্পষ্ট, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এই ‘চিকিৎসক-জঙ্গি জাল’। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিস্ফোরণকাণ্ডের পর সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। ধৃত ডাক্তারদের মধ্যে একাধিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা তাদের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন।


