Tuesday, March 10, 2026
Latestদেশ

দিল্লি বিস্ফোরণকান্ডে জড়িত জঙ্গি উমর মহম্মদের বাড়ি উড়িয়ে দিল নিরাপত্তাবাহিনী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার সামনে ১০ নভেম্বর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ। বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত ডা: উমর-উন-নবি ওরফে উমর মহম্মদের বাড়ি উড়িয়ে দিল নিরাপত্তা এজেন্সি। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় থাকা ওই বাড়িটি বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোররাতের মধ্যে ধ্বংস করা হয়।

DNA ম্যাচেই নিশ্চিত জঙ্গির পরিচয়

হুন্ডাই i20 গাড়িতে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতে উমরই ছিলেন—ডিএনএ পরীক্ষায় মিলেছে সেই প্রমাণ। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অন্তত ২০। আত্মঘাতী হামলার সম্ভাবনাই প্রবল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এই উমর পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। তিনি কাশ্মীর, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে নিয়মিত ঘোরাফেরা করতেন। তদন্তকারীদের মতে, তার সঙ্গী ডা: মুজাম্মিল শাকিল গ্রেফতার হওয়ায় তড়িঘড়ি প্ল্যান বদলে আত্মঘাতী হামলায় নেমে পড়ে উমর।

সহযোগীর ঘর থেকে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার

মুজাম্মিল শাকিল হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার ঘর থেকেই উদ্ধার হয় ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এই গ্রেফতারিই উমরের মধ্যে প্যানিক তৈরি করে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরই সে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে দিল্লির পথে রওনা হয়।

তুরস্ক সফরের পর বদলে যায় উমর

উমর সম্পর্কে সূত্রের দাবি, তিনি অত্যন্ত মেধাবী হলেও স্বভাবচুপচাপ। ২০২১ সালে ডা: শাকিলের সঙ্গে উমর তুরস্কে যান। সেখানেই জইশ-ই-মহম্মদের নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু নীচুস্তরের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাদের। ফেরার পর উমরের আদর্শগত পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে থাকে।

ধীরে ধীরে সে অনলাইনে শেখা টেকনিক ব্যবহার করে বিস্ফোরক বানানোর সরঞ্জাম—অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট ও সালফার সংগ্রহ করতে শুরু করে। এগুলি লুকিয়ে রাখা হত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই।

অসম্পূর্ণ বিস্ফোরক নিয়েই লালকেল্লার সামনে পৌঁছয় উমর

ফরিদাবাদ পুলিশ ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করার পর উমর ভয় পেয়ে যায়। দিল্লির একটি মসজিদে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পরই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। গাড়িতেই ছিল অর্ধ-তৈরি বিস্ফোরক, যা সঠিকভাবে ইনস্টলও করা ছিল না বলে জানা গেছে।

তদন্ত এগোচ্ছে বহু দিক খতিয়ে দেখে

এজেন্সির মতে, উমর একটি বড়সড় বিস্ফোরক হামলার পরিকল্পনা করলেও সহযোগীর গ্রেফতারের পর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ফলে তড়িঘড়ি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে লালকেল্লার সামনে পৌঁছে আত্মঘাতী হামলা চালায় সে।

উমরের বাড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করার মাধ্যমে তদন্ত আরও এক ধাপ এগোলো। গোয়েন্দারা এখন উমর-শাকিল মডিউলের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র, বিশেষ করে তুরস্ক সফরের পরবর্তী যোগাযোগ, অতিরিক্ত বিস্ফোরক সরঞ্জাম ও সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক খুঁজে দেখছেন।