Tuesday, March 10, 2026
Latestদেশ

‘প্রতিবাদের বদলে প্রগতি’: ভারতের জেন-Z গড়ছে নতুন ভারতের সাম্রাজ্য

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিবিসির সাম্প্রতিক ‘বিশ্লেষণ‘ — Why India’s Gen Z isn’t protesting like Nepal or Bangladesh — যেন ঔপনিবেশিক আমলের কোনও গোয়েন্দা রিপোর্টের পুনর্জন্ম। তথাকথিত এই প্রতিবেদনটি ভারতীয় তরুণ প্রজন্মকে ‘নিষ্ক্রিয়’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে, যেন তারা সমাজ-রাজনীতির প্রতি উদাসীন। কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারেই উল্টো — ভারতের জেন জেড এখন ব্যস্ত নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে, প্রতিবাদ নয়, প্রগতি তাদের লক্ষ্য।

🔹 ভারত ২০২৫: আকাঙ্ক্ষাই এখন আন্দোলনের বিকল্প

  • ২০২৫ সালের ভারত এক নতুন বাস্তবতার সাক্ষী।
  • দীপাবলিতে ৬ লক্ষ কোটি টাকার বিক্রি — ভারতের খুচরো বাণিজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
  • ৪০ লক্ষাধিক নতুন গাড়ি বিক্রি, যার মধ্যে ইভি সেক্টরে ৪৫% বৃদ্ধি।
  • ২.৫ কোটি নতুন ফর্মাল চাকরি গত ১৮ মাসে (ইপিএফও তথ্য অনুযায়ী)।
  • স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ১.২ লক্ষ কোম্পানি, ১১১টি ইউনিকর্ন, এবং ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতের প্রথম স্থান।
  • মুদ্রা যোজনা ও পিএমইজিপি প্রকল্পে ₹২৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ, যা ছোট উদ্যোক্তাদের সাম্রাজ্য গড়তে সাহায্য করেছে।
  • জিডিপি বৃদ্ধি ৭.২%, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চিন মন্দার মুখে।

এই পরিবর্তন কাকতালীয় নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দশ বছরের সিদ্ধান্তমূলক ও সংস্কারনির্ভর শাসনের ফলেই ভারতীয় তরুণরা আজ ‘আন্দোলন’ নয়, ‘অর্জন’-এর পথে।

🔹 ভয় নয়, সুযোগের সন্ধান

বিবিসি দাবি করেছে, ভারতের তরুণরা ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ তকমার ভয়েই চুপ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই প্রজন্মের একমাত্র ভয় — সুযোগ হারানোর ভয়।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ এবং ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’–র মতো উদ্যোগগুলো তরুণ সমাজকে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের মঞ্চ।

ঝাড়খণ্ডের এক আদিবাসী মেয়ে যখন এআই স্টার্টআপ চালাচ্ছে, বা কোয়েম্বাটুরের এক মেকানিক যখন ৩ডি প্রিন্টিং করে গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করছে — তখন বোঝা যায়, ভারতের তরুণরা এখন প্রতিবাদের বদলে প্রযুক্তিতে নিজেদের শক্তি খুঁজে পেয়েছে।

🔹 বিবিসির ‘প্রতিবাদ-আসক্তি’ ও পশ্চিমের ভয়

বিবিসি তুলনা করেছে ভারতের সঙ্গে নেপাল ও বাংলাদেশের যুব আন্দোলনের। কিন্তু সেসব দেশ এখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আইএমএফ ঋণ ও বিনিয়োগ সংকটে ভুগছে।

অন্যদিকে, ভারতের শেয়ারবাজার রেকর্ড ছুঁয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে।

পশ্চিমা মিডিয়া যেখানে বিশৃঙ্খলাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ হিসেবে দেখাতে চায়, ভারতের বাস্তবতা সেখানে একেবারে বিপরীত — স্থিতিশীলতা ও সাফল্যের মেলবন্ধন।

🔹 বিভাজন নয়, বৈচিত্র্যের ঐক্য

বিবিসি ভারতীয় তরুণদের ‘বিভাজিত’ বললেও, প্রকৃত অর্থে ভারতের বৈচিত্র্যই তার শক্তি।

তামিলনাড়ুর ভাষা-আন্দোলন, গুজরাটের স্টার্টআপ বিপ্লব, বা দিল্লির ইভি উদ্ভাবন — এই সবই ভারতের বিকেন্দ্রীকৃত উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি।

মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ এই বহুত্ববাদকেই সাফল্যের দিশা দিয়েছে।

🔹 প্রতিবাদ থেকে অংশগ্রহণে রূপান্তর

বিবিসির চোখে যেখানে প্রতিবাদই তরুণদের একমাত্র পরিচয়, সেখানে ভারতের জেন জেড এখন উদ্যোক্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বিনিয়োগকারী এবং প্রথমবারের ভোটার।

তারা আর সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সরকারের সঙ্গে কাজ করছে — পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে।

🔹 যে শিরোনাম বিবিসি মিস করেছে

  • ২০২৪ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ৬৫% নতুন ভোটার অংশগ্রহণ।
  • ৮ কোটিরও বেশি মহিলা উদ্যোক্তা মুদ্রা ও পিএম স্বনিধি প্রকল্পে লাভবান।
  • ১.৫ কোটিরও বেশি তরুণ প্রশিক্ষিত “স্কিল ইন্ডিয়া”-র অধীনে।

তবু, বিবিসি তাদের পুরোনো ‘নেতিবাচক ভারত’ আখ্যানেই আটকে।

নতুন প্রজন্মের বিপ্লব — ‘উন্নয়ন’

ভারতের জেন জেড আর পশ্চিমের কল্পনার ‘বিদ্রোহী যুবক’ নয়। তারা কোড লিখছে, অ্যাপ বানাচ্ছে, কারখানা চালাচ্ছে, চাকরি তৈরি করছে।

যখন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা ভারতের তরুণদের প্রতিবাদে দেখতে চান, তখন এই প্রজন্ম প্রমাণ করছে — সত্যিকারের বিপ্লব রাস্তার ধারে নয়, কর্মক্ষেত্রে ঘটে।

তথ্যসূত্র: Media Expose