Tuesday, March 10, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তায় ন্যাটোর আদলে ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা বাহিনী’ গঠনে মত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে মুসলিম দেশগুলো। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলো ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব পাস করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে কাতারের ওপর হামলা চালায়। এই হামলাকে নিন্দা জানিয়েছে কাতারসহ মুসলিম বিশ্ব। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিশ্বাসঘাতকামূলক ও কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করেন।

সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, “ইসরায়েলের আগ্রাসন স্পষ্ট এবং তারা গাজা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।”

ওআইসির মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা বলেন, “ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার এখনই সময়।” আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত ইসরায়েলকে ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানি ন্যাটোর আদলে আরব ও ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এই অঞ্চলের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুসলিম দেশগুলোকে ধর্মীয় সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে মানবতার ভিত্তিতেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নবী মহম্মদ (সা.) বলেছেন, সব মুসলিম ভাই ভাই। তাই আমাদের একটি দেহের মতো থাকতে হবে।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ ইসহাক দার সম্মেলনে স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আরব দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সম্মিলিত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এই বাহিনীতে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, সম্মেলনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা এবং দখলদার দেশটির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে আরব ও মুসলিম দেশগুলো কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবিচল সমর্থন জারি রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলে সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা মিত্র দেশগুলোর জোট শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। রুবিও বলেন, “এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হামাসের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করা উচিত।” নেতানিয়াহু ও রুবিও একযোগে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসাথে কাজ করে যেকোনো পরিস্থিতিতে একে অপরকে রক্ষা করবে।