‘মোদী বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা, ভারত নেপালে বিনিয়োগ করুক’, বলছে নেপালের জেন-জি’রা; নেপাল হিন্দু রাষ্ট্র হবে?
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বে নেপাল–ভারত সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার —প্রভৃতি কারণে সম্পর্কের উত্তাপ ক্রমশ বেড়েই চলছিল। কিন্তু ওলি সরকারের পতন ঘটিয়ে পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্কল্প নেপালের তরুণ প্রজন্মের। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করলো জেন-জি কোর কমিটির সদস্য তানাকা ধামি ও অর্জুন শাহি। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন, নেপাল–ভারত সম্পর্ক মজবুত করা তাদের প্রাধান্য।
নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব সহ মোট ২৬টি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করা হয়। ওলি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি ছিল শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাই নয়। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, রাজনৈতিক নেতাদের অপশাসন—এসবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। প্রবল বিক্ষোভের মুখে ওলি সরকারের পতন ঘটে।
আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। আন্দোলন হিংসাত্মক আকার ধারণ করার কারণ হিসেবে জেন-জিরা বলছে, আমাদের ২২ জন নিহত হয়। আমাদের কাছে ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক নেতারাই।
তানাকা ও অর্জুনের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন করে তুলেছিল। তারা জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।’
কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী পদে সুশীলা কার্কি, বলেন্দ্র শাহ ও কুলমান ঘিসিং—তিনজনের নাম উঠে আসে। তবে নেপালের তরুণ প্রজন্ম শেষমেশ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে বেছে নেন। অর্জুন বলেন, ‘সরকার গঠন নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নয়, বরং আমরা সিস্টেমের সংস্কারেই বিশ্বাসী।’
ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে তানাকা ও অর্জুন বার্তা দেন। তারা নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। ভারতের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। নেপালকেও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। আমরা চাই ভারত নেপালে বিনিয়োগ করুক।’
একাধিক কূটনৈতিক বিশ্লেষক নেপাল ফের হিন্দু রাষ্ট্র হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন। এ প্রসঙ্গে অর্জুন বলেন, ‘নেপাল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের কেন্দ্র। আমাদের অগ্রাধিকার মানবতা। সব ধর্মকে সম্মান করে এগিয়ে যেতে হবে।’


