উত্তরপ্রদেশে ‘মিয়াঁপুর’ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘রবীন্দ্রনগর’ রাখছে যোগী সরকার
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকার ফের নাম পরিবর্তন। এবার তা জড়িয়ে গেল বাঙালি আবেগের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) ঘোষণা করেছেন, লখিমপুর খেরি জেলার ‘মিয়াঁপুর’ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ‘রবীন্দ্রনগর’, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) সম্মানে।
প্রকল্প উদ্বোধন থেকে নামবদল ঘোষণা
শনিবার লখিমপুর খেরিতে একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন যোগী আদিত্যনাথ। প্রায় ২১৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৩১টি হিন্দু পরিবারকে জমির মালিকানা প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানেই তিনি ঘোষণা করেন, মিয়াঁপুর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘রবীন্দ্রনগর’ করা হবে।
বাস্তুচ্যুত পরিবার ও রাজনৈতিক বার্তা
সভা থেকে যোগী বলেন, বহু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে আসা এই পরিবারগুলি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। বর্তমান সরকার তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি তিনি বিরোধী দলগুলিকে, বিশেষ করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিকে আক্রমণ করে বলেন, তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে নীরব থেকেছে।
একইসঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা Citizenship Amendment Act (সিএএ)-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এই আইনের মাধ্যমেই বাস্তুচ্যুত হিন্দুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গ ও ইতিহাসের ব্যাখ্যা
যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বক্তৃতায় পাকিস্তানের সমালোচনা করে বলেন, দেশভাগের পর সেখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনই হিন্দুদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণ। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারগুলি এই মানুষদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেনি, বরং এলাকার নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।
বাংলার ভোট ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বাংলায় আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) এই পদক্ষেপকে ‘বাঙালি আবেগ’কে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে উত্তরপ্রদেশে বাঙালিদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের নামে গ্রামের নামকরণ—রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিরোধীদের নিশানা
এদিনের সভা থেকে যোগী তৃণমূল কংগ্রেসকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে হিন্দু ও শিখদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় তৃণমূলসহ বিরোধী দলগুলি নীরব থেকেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে বড় বার্তা
মিয়াঁপুর থেকে ‘রবীন্দ্রনগর’—এই নাম পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা একাধিক স্তরে রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। বাস্তুচ্যুত হিন্দুদের পুনর্বাসন, সিএএ-র প্রসঙ্গ এবং বাংলার ভোট—সব মিলিয়ে এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


