Monday, April 13, 2026
Latestদেশ

বড় সাফল্য, ছত্তিশগড়ের জঙ্গলে এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মাও নেত্রী রুপি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। কাঁকের জেলার জঙ্গলে এক এনকাউন্টারে নিহত হলেন শীর্ষস্থানীয় মহিলা মাওবাদী কমান্ডার রুপি। এই ঘটনাকে মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাচপল্লি-আরামঝোরা-হিদুর অঞ্চলে মাওবাদীদের উপস্থিতির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ছোটেবেঠিয়া-পার্তাপুর থানার অধীন ঘন জঙ্গলে পৌঁছতেই হঠাৎ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাওবাদীরা। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরপর ঘটনাস্থল থেকে এক মহিলা মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, নিহত ওই মহিলা হলেন রুপি, এরিয়া কমিটি মেম্বার (ACM) পদমর্যাদার এক গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতা।

রুপি ছিলেন দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির (DKSZC) শীর্ষ নেতা বিজয় রেড্ডির স্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মানপুর-মোহলা জেলায় এক এনকাউন্টারে নিহত হন বিজয় রেড্ডি। সেই ঘটনার পরও রুপি সক্রিয় ছিলেন এবং বস্তারে সক্রিয় শেষ দিকের তেলুগুভাষী মাওবাদীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বলে দাবি প্রশাসনের।

কাঁকের জেলার পুলিশ সুপার নিখিল রাক্ষেচা জানান, “বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। এনকাউন্টারের পর ঘটনাস্থল থেকে রুপির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য সামগ্রীও মিলেছে।”

বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদীদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। সরকার বারবার আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছে। অনেকেই সেই পথে ফিরে এসেছে। কিন্তু যারা এখনও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে, তাদের পরিণতিও একই হচ্ছে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “এই অঞ্চলে এখন খুব কম সংখ্যক মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের উচিত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।”

নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, কাঁকের অঞ্চলে এখনও প্রায় ১০ জন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাদের খোঁজে জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।

প্রশাসনের মতে, রুপির এনকাউন্টারে বস্তারে মাওবাদী সংগঠনের শক্তি আরও দুর্বল হল।