Thursday, March 26, 2026
Latestরাজ্য​

Chingrighata Metro: ‘জনহিতকর উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা কেন?’, চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভৎসর্না সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বকেয়া ৩৬৬ মিটার কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ বহাল রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ‘এই প্রকল্পে আর কোনও বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না।’ একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের করা মামলায় হস্তক্ষেপ করতেও অস্বীকার করেছে আদালত।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালত রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, জনস্বার্থমূলক প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, রাজ্য তার সংবিধানগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখাচ্ছে এবং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলে, উৎসবের কারণে পুলিশি সহায়তা দিতে না পারার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আপনাদের কাছে উন্নয়নের থেকে উৎসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।”

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অজুহাত দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। কখনও উৎসব, কখনও পরীক্ষা, আবার কখনও নির্বাচন—এই ধারাবাহিক অজুহাতের তীব্র সমালোচনা করে আদালত জানতে চায়, তাহলে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট বলেন, ‘আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগেই প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে, তাই নির্বাচনকে অজুহাত করে কাজ থামিয়ে রাখা যাবে না।’

আদালত রাজ্যকে শেষ সুযোগ দিয়ে জানায়, ‘চাইলে মামলা প্রত্যাহার করা যেতে পারে, না হলে তা খারিজ করে দেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে হাইকোর্টকেই সময়সীমা নির্ধারণ ও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট

চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই গত ১১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। তবে শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিল, জনস্বার্থে এই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতেই হবে।