Sonam Wangchuk: লাদাখে বাংলাদেশ, নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে হিংসা উসকানির গুরুতর অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করল কেন্দ্র সরকার ও লাদাখের প্রশাসন। সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে হাজির হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, গান্ধীয় অহিংসার আড়ালে তরুণ প্রজন্ম—বিশেষ করে ‘জেন জি’-কে হিংসাত্মক আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ওয়াংচুক।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ওয়াংচুক তার বক্তব্যে নেপাল ও বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনে এবং ‘আরব বসন্ত’-এর মতো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়ে যুবসমাজকে প্ররোচিত করেছেন। এমনকি তার বক্তব্যে আত্মদাহ ও বহিরাগত আগ্রাসনের ক্ষেত্রে অসহযোগ আন্দোলনের মতো বিষয়ের উল্লেখ ছিল বলেও দাবি করেন সলিসিটর জেনারেল।
তুষার মেহতা আদালতে বলেন, “তিনি খুব সুচিন্তিতভাবে বক্তব্য সাজিয়েছেন। ‘ওরা’ ও ‘আমরা’-র বিভাজন তৈরি করে লাদাখের মানুষদের মূলস্রোত থেকে আলাদা করার চেষ্টা হয়েছে। গণভোট ও প্লেবিসাইটের মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা একসময় জম্মু ও কাশ্মীরে দেখা গিয়েছিল।”
কেন্দ্রের যুক্তি, লাদাখ একটি সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী অঞ্চল, যা চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্যকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সামগ্রিকভাবে বিচার করা দরকার বলে আদালতে দাবি করা হয়।
সলিসিটর জেনারেল আরও বলেন, “মহাত্মা গান্ধী কখনও নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দেননি। অথচ তাঁর বক্তব্য ব্যবহার করে প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুককে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর আওতায় আটক করা হয়। তার দু’দিন আগে লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে হওয়া হিংসাত্মক আন্দোলনে চার জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৯০ জন আহত হন।
ওয়াংচুকের আটকাদেশের বিরুদ্ধে গীতাঞ্জলি আংমোর দায়ের করা আবেদনের শুনানিতেই এই সওয়াল উঠে আসে। জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী কার্যকলাপ রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কাউকে আটক করতে পারে।


