একনজরে মোদী-জিনপিং বৈঠকের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রবিবার চিনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং বহুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে ভারত-চিনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ এ দিন যে দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়, তা নজর কেড়েছে কূটনৈতিক মহলে।
বৈঠকের মূল দিকগুলি
১. পারস্পরিক সংহতির বার্তা: মোদী জানান, ভারত-চিনের সহযোগিতার সঙ্গে ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত। দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে—এই বার্তাই উঠে আসে আলোচনায়।
২. কৈলাস-মান সরোবর যাত্রা ও ভিসা পরিষেবা: করোনা পরবর্তী সময়ে স্থগিত থাকা তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হয়েছে। ভারতও চিনের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করেছে।
৩. ফ্লাইট পরিষেবা পুনরায় চালুর আলোচনা: করোনা-পরবর্তী সময়ে বন্ধ থাকা সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
৪. তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ না চাওয়া: আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ (ইঙ্গিত পাকিস্তান) গ্রহণযোগ্য নয়। সন্ত্রাস দমন ও বহুদেশীয় বাণিজ্যে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৫. গালওয়ান সংঘর্ষ-পরবর্তী সম্পর্ক: ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে তিক্ততা তৈরি হলেও, দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাজ করছে। রাশিয়ার কাজান বৈঠকের পর থেকেই এই পথ প্রশস্ত হয়েছে।
৬. ‘বন্ধু ও ভালো প্রতিবেশী’ হিসেবে স্বীকৃতি: শি জিনপিং ভারত-চিনকে বন্ধু ও ভালো প্রতিবেশী আখ্যা দিয়ে গ্লোবাল সাউথে উভয়ের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন।
৭. সীমান্ত সমস্যার প্রভাবহীনতা: সীমান্ত সমস্যা যেন বৃহত্তর সম্পর্ককে প্রভাবিত না করে—এই মর্মে দুই দেশের কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
৮. চিনা কোম্পানির প্রবেশাধিকার: ভারতের ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল শিল্পের উন্নতিতে চিনা কোম্পানিগুলির বৃহত্তর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
৯. সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু: উভয় দেশই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। চিন ভারতকে বিরল মৃত্তিকা, সার ও টানেল বোরিং মেশিন সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে।
১০. উদ্বিগ্ন আমেরিকা: মার্কিন শুল্ক নীতির চাপে ভারত-চিনের ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের এই সখ্যতার দিকে কড়া নজর রাখছে।
ভারত-চিন সম্পর্কে এক নতুন ধাপ
তিয়ানজিন বৈঠককে বিশেষজ্ঞরা ভারত-চিন সম্পর্কে এক নতুন ধাপ বলে মনে করছেন। সীমান্ত সমস্যা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা স্পষ্ট। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারসাম্য আনতে বিশ্বের দুই বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশের এই সখ্যতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


