‘আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত’, জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বন্ধুত্বের বার্তা মোদীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: চিনের বন্দর নগরী তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রবিবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। বৈঠকে মোদী স্পষ্ট বার্তা দেন, ভারত-চিন সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি হবে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সঙ্গে উভয় দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত। এটি মানবকল্যাণের পথও প্রশস্ত করবে। আমরা পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই বক্তব্য শুধু চিনকে নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপে যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন দিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক মজবুত করার ইঙ্গিত দিলেন মোদী।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। মোদী শেষবার চিন সফর করেছিলেন ৭ বছর আগে। যদিও গত অক্টোবরে রাশিয়ায় ব্রিকস সম্মেলনের সময় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর থেকেই ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করে।
এবার এসসিও সম্মেলনের মঞ্চে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাৎ সেই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। বিশেষত, আমেরিকার সঙ্গে চলা শুল্ক দ্বন্দ্বের আবহে ভারত ও চিন নিজেদের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছে।
অন্যদিকে, সোমবার তিয়ানজিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ফলে এক মঞ্চে বিশ্বের তিন বড় শক্তিধর দেশের নেতাদের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।


