‘আমরা তোমার কথা খুব ভাবছি’, দিল্লি হিংসায় জেলবন্দি উমরকে চিঠি মামদানির
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লি হিংসায় ৫ বছর ধরে জেলবন্দি রয়েছেন উমর খালিদ। এবার উমরের পাশে দাঁড়ালেন নিউ ইয়র্কের সদ্যনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। জেলবন্দি উমরের উদ্দেশে নিজের হাতে লেখা একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পরেই ভারত সরকারকে চিঠি লিখেছেন আমেরিকার সেনেট ও কংগ্রেসের মোট আটজন জনপ্রতিনিধি। তাদের দাবি, উমর খালিদকে জামিন দেওয়া হোক এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক।
জানা গিয়েছে, গত মাসে আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন উমর খালিদের বাবা সৈয়দ কাশিম রসুল ইলিয়াস ও মা সাবিনা খানাম। সেই সফরেই তারা একাধিক মার্কিন রাজনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের খবর, নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়া জোহরান মামদানির সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন উমরের মা-বাবা। ওই সময়েই উমরের জন্য নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি দেন মামদানি। চিঠিতে তার বার্তা, “আমরা সকলেই তোমার কথা খুব ভাবি।” পরে সেই চিঠির ছবি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন উমরের সঙ্গিনী।
Zohran Mamdani writes to Umar Khalid.
December 2025. #FreeUmarKhalid#FreeAllPoliticalPrisoners pic.twitter.com/QTYe06cRp5— banojyotsna … (@banojyotsna) January 1, 2026
মামদানির চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি আরও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায়। জানা যায়, মার্কিন সেনেট ও কংগ্রেসের ৮ জন জনপ্রতিনিধি যৌথভাবে চিঠি লিখেছেন আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কোত্রাকে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ বছর ধরে উমর খালিদ বিচারাধীন অবস্থায় জেলে রয়েছেন, যা উদ্বেগজনক। তাদের বক্তব্য, যুক্তিযুক্ত সময়ের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা এবং দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা আরও উল্লেখ করেছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বিচারাধীন অবস্থায় কারাবাস ন্যায়বিচারের মূল নীতির পরিপন্থী বলেও চিঠিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় উমর খালিদ, শারজিল ইমাম-সহ একাধিক অভিযুক্ত এখনও জেলবন্দি। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা চলছে। ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন একাধিকবার খারিজ হয়েছে। দিন কয়েক আগে বোনের বিয়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও, ২৯ ডিসেম্বর ফের জেলে ফিরতে হয় উমরকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন, হিংসায় জড়িত জেলবন্দিদের হয়ে কেন সওয়াল করছেন জোহরান মামদানি? দিল্লি হিংসায় ভারতে সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। পাকিস্তানে সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও জেলবন্দি ১৬৭ জন ভারতীয়। তাদের হয়ে কেন সওয়াল করেন না?


