Tuesday, January 27, 2026
Latestদেশ

Mamata Banerjee: SIR ইস্যুতে এবার দিল্লি অভিযানের ডাক মমতার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এসআইআর (Special Intensive Revision) ইস্যুকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজভবনের অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এসআইআর আবহেই তিনি দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। একজনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে সেই আন্দোলন যে দিল্লির বুকে আছড়ে পড়বে, সেই হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল তৃণমূল। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার ঘোষণায় সেই রাজনৈতিক জল্পনায় কার্যত সিলমোহর পড়ল।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সংসদের অধিবেশন চলাকালীনই তিনি রাজধানীতে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসদে উপস্থিত বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হবে এবং বিরোধী জোটকে আরও সক্রিয় করার ক্ষেত্রও খুলে যাবে। আবার অন্য একটি মহলের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।

সফরের সময় যাই হোক, মমতার মূল এজেন্ডা যে এসআইআর—তা স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে তুলে ধরতে চান। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক আক্রমণ আরও ধারালো করার প্রস্তুতি তৃণমূলের।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিনেই কলকাতায় মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়াসাঁকোর সভা থেকে সেদিন অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “নেত্রীর অনুমতি নিয়ে বলছি, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে এক লক্ষ মানুষকে নিয়ে যাব।” এবার মমতার সশরীরে দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তে সেই আন্দোলনের তীব্রতা যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে তৃণমূল শিবিরে কোনও সংশয় নেই।

দলের অন্দরের খবর, দিল্লিতে গিয়ে মমতা প্রমাণ করতে চান যে বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূলের কৌশল কংগ্রেস বা অন্য বিরোধী দলগুলির তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র বা দিল্লির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীরা যথাযথভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারলেও, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া ও ভুয়ো নাম সংযোজনের ‘খেলা’ ধরে ফেলেছে।