Thursday, February 26, 2026
Latestকলকাতা

বাংলাদেশে দীপু দাসকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা! বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে-পুড়িয়ে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল গোটা ভারত। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও কলকাতার রাস্তায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির প্রতিবাদ মিছিল। শঙ্খনাদ, ত্রিশুল হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে শুরু হয় মিছিল। মঙ্গলবার হিন্দুত্ববাদীদের মিছিলকে ঘিরে বেকবাগান এলাকায় তৈরি হয় চরম অশান্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হন একাধিক আন্দোলনকারী। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হিন্দুত্ববাদী নেতা লালবাবা। সবমিলিয়ে এদিন কলকাতার বেকবাগান কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে শিয়ালদাহ থেকে মিছিল শুরু করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের দফতর। তবে বেকবাগান এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয় মিছিল। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সময় পুরুষ ও মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা, হাতাহাতি শুরু হয়।


ঘটনার পর কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী নেতাকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, “এ রাজ্য পুলিশ নয়, এ যেন বাংলাদেশি পুলিশ। সন্ন্যাসীদের উপর লাঠি চালানো হচ্ছে, প্রতিবাদী মহিলাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে।” আহত এক সাধু দাবি করেন, “দলদাস পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে হিন্দু সাধু-সন্তদের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে।”

গ্রেফতারির প্রতিবাদে পুলিশ ভ্যানের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। এরফলে বেশ কিছু সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ওই এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী নামানো হয়।


এদিকে, একই ইস্যুতে রাজধানী দিল্লিতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে হিন্দু মহাসভা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। মঙ্গলবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে জড়ো হন সংগঠনের সদস্যরা। সেখানে তাঁরা বাংলাদেশে ‘নির্বিচারে হিন্দু নিধনের’ অভিযোগ তুলে কড়া প্রতিবাদ জানান এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। তবে নিরাপত্তার কারণে মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

প্রতিবাদ চলাকালীন কিছু আন্দোলনকারী ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের কারণে বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে সেখানেও সংঘর্ষে ভাঙচুর ও আহতের খবর পাওয়া গেছে।