Wednesday, January 28, 2026
Latestরাজ্য​

Indo-Bangladesh Border Fencing: সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে জমি দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ৯ টি জেলায় কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করতেই হবে।

আদালত জানায়, এই জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যকে দিয়ে দিয়েছে এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে জমি হস্তান্তর না হওয়ায় কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ থমকে রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এক্ষেত্রে এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত, জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপের প্রশ্ন

এছাড়াও যেসব জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে এখনও রাজ্য ক্যাবিনেটের অনুমোদন মেলেনি, সেই বিষয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সীমান্তের জমি অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ এপ্রিল।

এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী ড. সুব্রত সাহা। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অংশ দিয়ে অবাধে বেআইনি চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ চলছে এবং তার জন্য রাজ্যের গাফিলতিই দায়ী।

আদালতে কেন্দ্র–রাজ্যের সওয়াল-জবাব

গত শুনানিতে রাজ্যের ভূমি অধিগ্রহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এদিন রাজ্য সরকার জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার যে ১৮১ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য জমি অধিগ্রহণের অর্থ দিয়েছে, সেই জমি আগামী মার্চের মধ্যেই বিএসএফকে হস্তান্তর করা হবে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ৩১ মার্চকে চূড়ান্ত ডেডলাইন হিসেবে নির্ধারণ করে।

অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতে জানান, ‘বিষয়টি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। আইন অনুযায়ী জেলা কালেক্টর জরুরি পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ মামলাকারীর আইনজীবী জানান, ‘২০১৩ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যতই আর্জেন্সি থাক, কালেক্টর কি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?”

রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘২০১৩ সালের নির্দিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ নীতি অমান্য করে রাজ্যের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।’ তাঁর বক্তব্য, “অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সেকশন ৪০ প্রয়োগ করা যায় না। কৃত্রিম আর্জেন্সিকে আর্জেন্সি বলা যায় না।”

নির্দিষ্ট জেলার জন্য বাড়তি সময় চাইল রাজ্য

অধিগ্রহণের টাকা হাতে পাওয়ার পরও জমি হস্তান্তর না হওয়া নিয়ে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ‘২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে। তবে কিছু জেলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুনে এবং মুর্শিদাবাদে জুনের মধ্যে জমি হস্তান্তর করা হবে। সীমান্ত এলাকায় জমির মালিকানা দ্রুত বদল হওয়ার কারণে প্রশাসনিক সমস্যা হচ্ছে। বাকি যে জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন, তা এখনও প্রক্রিয়াধীন।’