Uttar Pradesh: উত্তরপ্রদেশে সরকারি জমিতে অবৈধ মাদ্রাসা-মসজিদ, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল যোগী প্রশাসন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় ফের বুলডোজার অভিযান চালাল যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। সরকারি জমি দখল করে নির্মাণের অভিযোগে একাধিক ‘অবৈধ’ মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে দীপা সরাই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল পুলিশ বাহিনী ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২.৫ বিঘা সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছিল। ওই জমিতে দু’টি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। অভিযানের সময় তিনটি বুলডোজার ব্যবহার করে প্রায় ১৫০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে থাকা অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
আগেই সতর্কতা, নিজেরাই ভাঙেন গ্রামবাসীরা
প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের বিষয়ে গ্রামবাসীদের আগেই একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। বুলডোজার অভিযান শুরু হওয়ার আগেই একটি অবৈধ মসজিদের বড় অংশ স্থানীয় বাসিন্দারাই ভেঙে ফেলেন। প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, দুইটি মসজিদের মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই অনেকটাই ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয় তহসিলদার জানান, “মানুষ নিজেরাই যদি অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নিতে এগিয়ে আসে, তা হলে প্রশাসনের পক্ষেও কাজ সহজ হয়। এটা ইতিবাচক দিক।”
আদালতের নির্দেশে অভিযান, দাবি প্রশাসনের
প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলি সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, মুতাওয়াল্লি হাজি শামিম ৪৩৯ বর্গমিটার সরকারি জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ২০১৮ সালে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিল হওয়ার পর তহসিলদার আদালতে দীর্ঘদিন মামলা চলে। সমস্ত নথি ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত জমিটিকে সরকারি বলে ঘোষণা করে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এই বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
বাবর-আমলের মন্দির ভেঙে মসজিদ বিতর্ক
এই অভিযানের প্রেক্ষাপটে ফের উঠে এসেছে ঐতিহাসিক বিতর্ক। অভিযোগ রয়েছে, মোগল সম্রাট বাবরের আমলে হরিহর মন্দির ভেঙে শাহি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এই দাবি ঘিরে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। গত বছর এই ইস্যুতে সম্ভল এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনাও ঘটেছিল। তার পর থেকেই সম্ভল প্রশাসন বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ধর্ম নয়, জমি উদ্ধার—জোর প্রশাসনের
অভিযানের নেতৃত্ব দেন সম্ভলের জেলাশাসক রাজেন্দ্র পেনসিয়া ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই। প্রশাসনিক কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান নয়। তাঁদের মতে, “আইন মেনে সরকারি জমি উদ্ধারই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।” একই সঙ্গে বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধেও আলাদা অভিযান চালানো হয়েছে।
মসজিদ কমিটির আপত্তি, ১৯৯১ সালের আইনের প্রসঙ্গ
অন্যদিকে, শাহি মসজিদ কমিটি এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ১৯৯১ সালের ‘উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন’ অনুযায়ী কোনও ধর্মীয় স্থাপনার চরিত্র পরিবর্তন করা যায় না। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় যে ধর্মীয় স্থাপনা যেখানে ছিল, সেটাই বহাল রাখার কথা। এই আইনের একমাত্র ব্যতিক্রম অযোধ্যার রাম জন্মভূমি–বাবরি মসজিদ মামলা।
মসজিদ কমিটির বক্তব্য, স্বাধীনতার আগে কোনও মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়ে থাকলেও বর্তমানে যেখানে মসজিদ রয়েছে, সেখানে মসজিদই থাকার কথা। ফলে শাহি মসজিদ সংক্রান্ত দাবি আইন-বিরোধী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তারা মনে করছে।
তথ্যসূত্র: NDTV


