Proloy Chaki: বাংলাদেশে জেলে মৃত্যু সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকীর, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে একের পর হিন্দু হত্যার মধ্যে এবার জেলে মৃত্যু সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকীর (৬০)। এই ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে।
জানা গেছে, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী আওয়ামি লিগ নেতাও ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রশাসনিক অবহেলা এবং হেফাজতে দুর্ব্যবহারের ফলেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
প্রলয় চাকী বাংলাদেশের সংগীত জগতে পরিচিত মুখ ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আওয়ামি লিগের পাবনা জেলা ইউনিটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সংস্কৃতি বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। রাজনীতি ও সংস্কৃতি—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন প্রলয় চাকী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে পাবনা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণ মামলায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় আওয়ামি লিগের একাধিক নেতার নামও উঠে এসেছে। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি পুলিশ ও জেল হেফাজতে ছিলেন।
পরিবারের দাবি, প্রলয় চাকী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পরেও তাঁকে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যার পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গভীর রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময়ও তিনি পুলিশ ও জেল হেফাজতেই ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, প্রলয়ের শারীরিক অসুস্থতার কথা বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হেফাজতে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পরিবারের দাবি, এই মৃত্যু রহস্যজনক এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফের বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক হিন্দু নাগরিকের মৃত্যু ও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত মাসে গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। এরপর অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
ময়মনসিংহে গুলি করে হত্যা করা হয় বজেন্দ্র বিশ্বাসকে। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু হয় হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাসের। সম্প্রতি যশোরের মণিরামপুরে জনবহুল বাজারে গুলি করে হত্যা করা হয় রানা প্রতাপ বৈরাগীকে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রলয় চাকীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চিন্ময় কৃষ্ণ মহারাজও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জেলবন্দি রয়েছেন। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি।


